প্রবাসীদের ‘শ্রমিক’ হিসেবে অভিহিত করার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান তাদের জন্য সম্মানজনক সম্বোধন খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের সবাই শ্রমিক নন; অনেকেই বিভিন্ন দেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংসদে আলোচনা
বুধবার (১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে কার্যপ্রণালি বিধির ১৪৭ অনুযায়ী উত্থাপিত এক প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হয়। আলোচ্য প্রস্তাব ছিল—দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের সমস্যা সমাধান, কল্যাণ নিশ্চিতকরণ এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ টেকসই করার বিষয়।
শ্রমিক শব্দের ব্যবহারে আপত্তি
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তাদের শ্রমিক বলি, তবে আমি শ্রমিক বলতে নারাজ। শ্রমিক রপ্তানি বলা উচিত নয়, কারণ পণ্য রপ্তানি করা হয়, মানুষ নয়।’ তিনি প্রবাসীদের ‘যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাদের বীরের সম্মান দেওয়া উচিত এবং দেশে ফিরে যেন তারা সেই মর্যাদা পান।
সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সংসদীয় টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, যেসব দেশে সমস্যা বেশি, সেখানে টাস্কফোর্স সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারে। দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পাসপোর্ট ও এনআইডি জটিলতা
পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনজনিত জটিলতার বিষয়েও তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার মতে, এনআইডির সঙ্গে তথ্যের সামান্য অমিল থাকায় অনেক প্রবাসী পাসপোর্ট নবায়ন করতে পারছেন না। এতে কেউ কেউ অবৈধ অবস্থানে পড়ছেন এবং আইনি জটিলতায় জড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, এনআইডি ও পাসপোর্টসংক্রান্ত সমস্যার সহজ সমাধানের ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে প্রবাসীরা বিদেশে অবস্থান করেই এসব জটিলতা নিরসন করতে পারেন।
প্রবাসীদের দেশের সম্পদ উল্লেখ করে তাদের সহায়তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।



