তৃণমূল ছাড়লেন আরও এক রাজ্যসভার সদস্য সুস্মিতা দেব
তৃণমূল ছাড়লেন আরও এক রাজ্যসভার সদস্য সুস্মিতা দেব

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। দলটির রাজ্যসভার আরেক সদস্য সুস্মিতা দেব সব সাংগঠনিক পদ ও সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। চলতি সপ্তাহে তৃণমূলের দ্বিতীয় রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে তিনি পদত্যাগ করলেন।

পদত্যাগের চিঠি

রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি. পি. রাধাকৃষ্ণনকে লেখা এক চিঠিতে সুস্মিতা দেব বলেন, ‘আমি রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করছি। অনুগ্রহ করে তা অবিলম্বে কার্যকর হিসেবে গ্রহণ করা হোক।’

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সাথে বৈঠক

পদত্যাগের কিছুক্ষণ পরই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার দিল্লির বাসভবনে তার সঙ্গে সুস্মিতা দেবের হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সুস্মিতা দেব বলেন, ‘এখানে শুধু আসামের সংযোগ রয়েছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দাবি করেন, দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত। তিনি বলেন, ‘কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেটি দীর্ঘ গল্প। রাজনীতিতে সবকিছু প্রকাশ করতে হয় না। আমি কখনও একসঙ্গে দুই নৌকায় পা রাখতে চাই না। আমি কোনো দলে থেকে অন্য দলের জন্য কাজ করিনি। এটি সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখন স্বাধীন। কয়েকদিনের জন্য নিজেকে একটু সময় দিতে চাই। আমি আসামের বরাক উপত্যকার মানুষ। আমি আসামের মানুষের সেবা করতে চাই।’

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পরামর্শ

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তার পরামর্শ নিতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়, তিনি আমাকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট

তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সুস্মিতা দেব মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, ‘কেন মানুষ তৃণমূল থেকে সরে যাচ্ছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোন দলে যোগ দেব এবং আমার রাজনৈতিক অবস্থান কী হবে, সেটি আমার সিদ্ধান্ত। রাজনীতি চালিয়ে যাব। আমি নির্বাচনী অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন রাজনীতিবিদ এবং সাংগঠনিক কর্মী। আসামই আমার রাজ্য।’

সুস্মিতা দেবের রাজনৈতিক পটভূমি

৫৩ বছর বয়সি সুস্মিতা দেব ২০২১ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। তখন তিনি জনসেবার ‘নতুন অধ্যায়’ শুরু করার কথা বলেছিলেন। তিনি আসামের প্রভাবশালী বাঙালি কংগ্রেস নেতা সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। সুস্মিতা দেব একসময় অল ইন্ডিয়া মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী ছিলেন। এর আগে তিনি আসামের শিলচর লোকসভা আসন থেকেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, যা দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

আগের পদত্যাগ

এর আগে সোমবার তৃণমূলের প্রবীণ নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য সুখেন্দু শেখর রায়ও সংসদ সদস্যপদ এবং দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগপত্রে তিনি তৃণমূল এবং পশ্চিমবঙ্গে দলটির ১৫ বছরের শাসনের তীব্র সমালোচনা করেন।

বিধানসভায় বিদ্রোহ

সাম্প্রতিক পদত্যাগগুলো এমন এক সময় ঘটছে, যখন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিধানসভা দলে নজিরবিহীন বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। দলটির ৫৮ জন বিধায়ক নেতৃত্বের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা পদে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছেন এবং দলের আনুষ্ঠানিক প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই বিদ্রোহ এবং পরে বিধানসভার স্পিকারের মাধ্যমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর সংগঠনের ভেতরে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।