দুমকী ইউএনওর সঙ্গে অস্ত্র মামলার আসামির ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়
দুমকী ইউএনওর সঙ্গে অস্ত্র মামলার আসামির ছবি ভাইরাল

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর সঙ্গে অস্ত্র মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি সালাউদ্দিন শরীফ ও তাঁর সহযোগীদের ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ছবিতে কারা আছেন?

ছবিতে দেখা যাওয়া ব্যক্তির নাম সালাউদ্দিন শরীফ। বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ তাঁকে দুমকী উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয় বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়া ছবিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় দল থেকে বহিষ্কৃত দুমকী উপজেলা বিএনপির নেতা জসিম উদ্দিন হাওলাদার ও মতিউর রহমান এবং কৃষক দলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল ওয়াহাবসহ আরও কয়েকজন।

সালাউদ্দিন শরীফের বিরুদ্ধে মামলা

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, সালাউদ্দিন শরীফ গত ১১ মে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের একটি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২ জুন দুমকীর ইউএনও হিসেবে যোগ দেন আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরী। যোগদানের পর বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার সালাউদ্দিন শরীফ ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে ইউএনওর ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়ের ছবি তোলা হয়।

প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক নেতা মতিউর রহমান বলেন, ‘নতুন ইউএনওকে শুভেচ্ছা জানাতে আমরা গিয়েছিলাম। সেখানে মামলার আসামি সালাউদ্দিন শরীফ কীভাবে এসে আমাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন, তা বুঝতে পারিনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও মামলার সাক্ষী আবুল বাশার নিউটন বলেন, গত ১১ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় একাধিক শিক্ষক ও কর্মকর্তা আহত হন। এ ঘটনায় সালাউদ্দিন শরীফসহ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, সালাউদ্দিনকে খুঁজে পাচ্ছে না তারা। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, তিনি উপজেলা পর্যায়ের একজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছবি তুলছেন। বিষয়টি উদ্বেগজনক।

গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে

সালাউদ্দিন শরীফকে গ্রেপ্তার করতে না পারার বিষয়ে দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মামলায় এ পর্যন্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আরও ১৫ জন আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন। সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তারে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি কৌশলে চলাফেরা করছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে ইউএনও আবদুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। একইভাবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাসুদ উল আলমের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।