তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর: বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর: সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার পথে প্রথম পদক্ষেপ। আজ শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ সফররত হাকান ফিদান তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাতে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে?

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ সন্ধ্যায় তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও এক্স হ্যান্ডলারে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সম্পর্ককে পরের ধাপে নেওয়ার অংশ হিসেবে দুই পক্ষ দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে প্রতিবছর ‘২+২ বৈঠক’ আয়োজনে সম্মত হয়েছে। এর পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বৈঠক পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অধীনে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হবে। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ওই কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাকান ফিদানের বক্তব্য

অন্যদিকে, তিন দিনের সফর শেষে হাকান ফিদান নিজের এক্স হ্যান্ডলারে লিখেছেন, ‘তুরস্ক ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব কেবল অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে নয়; এটি এমন দুটি জাতির বন্ধুত্ব, যারা কঠিন সময়ে একে অপরের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। আমরা ভবিষ্যতেও এই বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তুলব।’

বাংলাদেশ সফর নিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডলারে হাকান ফিদান লিখেছেন, ‘এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সফরের চতুর্থ ও শেষ গন্তব্য ছিল বাংলাদেশ। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বিস্তারিত বৈঠক করেছি। পুরো সফরে আমরা বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করেছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেছেন, ‘ফেব্রুয়ারির নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দেশটি একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে এবং বাংলাদেশের ভাইবোনেরা যাতে শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার মধ্যে বসবাস করতে পারেন, সে লক্ষ্যে যে ব্যাপক প্রচেষ্টা চলছে, সেটাও আমরা দেখেছি। আমরা উপলব্ধি করেছি যে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অত্যন্ত দৃঢ় ভিত্তির ওপর আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে আমরা সব ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং একই অঙ্গীকার নিয়ে বাংলাদেশের ভাইবোনদের পাশে থাকব।’

আলোচনার বিষয়বস্তু

বাংলাদেশে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তিন দিনের সফরের শেষ কার্যক্রম ছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। তাঁদের আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। তবে আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যৌথ উৎপাদন ও সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি।

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরের সময় রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে কক্সবাজার যান তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ নিয়ে তিনি বলেন, ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমানকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ একটি বিশাল দায়িত্ব পালন করছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধান খুঁজে বের করাই আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য। কক্সবাজারে আমরা তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, টিকা (টিআইকেএ), তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট, তুরস্ক দিয়ানেত ফাউন্ডেশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও সরেজমিনে ঘুরে দেখেছি। তুরস্ক-বাংলাদেশ মানবিক সহায়তা হাসপাতালে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গেও আমরা সাক্ষাৎ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিকট ভবিষ্যতে দুই পক্ষের জন্য সুবিধাজনক সময়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান হাকান ফিদান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খলিলুর রহমান অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন।