তুরস্কের সঙ্গে কেন সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে বাংলাদেশ?
তুরস্কের সঙ্গে কেন সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে বাংলাদেশ?

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফর শেষ হয়েছে শনিবার। এই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ। এছাড়া প্রতি বছর ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সামরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা

কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশে ড্রোন ও ট্যাংকসহ ইলেকট্রনিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন কারখানা স্থাপনের সুযোগ আছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে তুরস্কের একটি ড্রোন নির্মাতা কোম্পানির কাছ থেকে ড্রোন সংগ্রহের চুক্তি করেছে। সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, চীনা অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং মার্কিন ও ইউরোপের অস্ত্রের উচ্চমূল্যের কারণে তুরস্ক একটি ভালো বিকল্প।

যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা

সামরিক বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম বলেন, তুরস্কের ড্রোন ও ট্যাংকের সক্ষমতা প্রমাণিত। খরচ কম কিন্তু সক্ষমতা বেশি এমন সরঞ্জাম উৎপাদনে তুরস্ক সফল। পাকিস্তান ও চীনের মতো তুরস্কও বাংলাদেশে যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে এগিয়ে আসতে পারে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশ চাইছে তুরস্ক ড্রোনসহ কিছু সরঞ্জাম বাংলাদেশেই তৈরি করুক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা

বাংলাদেশ তুরস্কের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া ঢাকায় আন্তর্জাতিক মানের হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপনে তুরস্ককে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা করেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রযুক্তি হস্তান্তরের গুরুত্ব

বাংলাদেশ এখন প্রযুক্তি হস্তান্তরে গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব মনে করে, দীর্ঘমেয়াদে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তুরস্কের প্রযুক্তি হস্তান্তর ও প্রশিক্ষণ সহায়ক হবে। তুরস্ক চাইছে বাংলাদেশি সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ সুযোগ বাড়াতে, যা ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ব্যবহার ও যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করবে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকরা মনে করেন, তুরস্ক কাশ্মীর ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভূমিকা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ২০২০ সালে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এসেছিলেন। এবার সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই তুরস্ক যোগাযোগ জোরদার করেছে। এমদাদুল ইসলাম বলেন, তুরস্ক বিশ্বব্যাপী মুসলিম দেশগুলোর একটি বলয় প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা তাদের ভূ-রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হতে পারে।

অতীতের সহযোগিতা

এর আগে বাংলাদেশ তুরস্ক থেকে মাইন সুরক্ষিত সামরিক যান, বহুমাত্রিক রকেট প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, গ্রাউন্ড সার্ভেইলেন্স রাডার, সাঁজোয়া যান, পোর্টেবল জ্যামার, মিসাইল লঞ্চিং সিস্টেম, স্কাইগার্ড রাডার সিস্টেমসহ নানা ধরনের সমরাস্ত্র কিনেছে। ২০২০ সালে তুরস্কের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলিত শাভিসলু বলেছিলেন, তারা অস্ত্র আমদানিকারকদের তালিকায় বাংলাদেশকে পেতে চান।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্প

প্রতিরক্ষা বিষয়ক জার্নাল ও রিপোর্ট থেকে জানা যায়, তুরস্ক শটগান, রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, লাইট মেশিন গান, হেভি মেশিনগান, ল্যান্ডমাইন, হ্যান্ড গ্রেনেড, রকেট, সেল্ফ প্রপেল্ড গ্রেনেড, অ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান-সহ নানা অস্ত্র ও সেন্সর তৈরি করে। তবে সবচেয়ে আলোচিত তুরস্কের ড্রোন, যার মধ্যে মেশিনগান ও গ্রেনেড বহনকারী ড্রোনও রয়েছে। বৈশ্বিক সংঘাতের মধ্যে তুরস্ক এখন ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও রফতানিতে মনোযোগ দিচ্ছে, যার লক্ষ্য বিশ্বের শীর্ষ ক্ষেপণাস্ত্র রফতানিকারক দেশে পরিণত হওয়া।