ফোনালাপ ফাঁসে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক ফোনালাপ ফাঁস আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ইরান যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে এই ফোনালাপ ফাঁস বিশ্বরাজনীতিকে আরও টালমাটাল করে তুলেছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের কঠোর ভাষা ও প্রকাশ্য ক্ষোভ এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
ট্রাম্পের ক্ষোভ ও ভাষা
ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপের সময় লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ট্রাম্প তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি সরাসরি বলেন, ‘তুমি কী করছ এসব? তুমি একেবারে পাগল হয়ে গেছ। আমি না থাকলে তুমি এখন জেলে থাকতে।’ এই বক্তব্য কূটনৈতিক সৌজন্য ভেঙে দেয় এবং দুই নেতার সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট করে।
‘সবাই ইসরায়েলকে ঘৃণা করে’
সবচেয়ে আলোচিত অংশে ট্রাম্প বলেন, ‘এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। সবাই ইসরায়েলকে ঘৃণা করে এই কারণে।’ এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইসরায়েল সম্পর্কে বৈশ্বিক জনমতের পরিবর্তনের প্রতিফলন।
পিউ জরিপে নেতিবাচক ধারণা
ওয়াশিংটনভিত্তিক পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বের ২৪টি দেশের মধ্যে ৬২ শতাংশ মানুষ গত বছর ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেছেন, যেখানে মাত্র ২৯ শতাংশ ইতিবাচক মত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ইসরায়েল সম্পর্কে মনোভাব বদলাচ্ছে—৫৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক এখন নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন, যা দুই বছরে ১১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়েছে।
বিশ্বে ইসরায়েলের একাকিত্ব
অস্ট্রেলিয়া, গ্রিস, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, সুইডেন ও তুরস্কসহ কয়েকটি দেশে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ ইসরায়েলের প্রতি বিরূপ। এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান একাকিত্বের ইঙ্গিত দেয়।
ট্রাম্পের সামরিক সমালোচনা
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প স্বীকার করেন তিনি জানেন হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে, কিন্তু নেতানিয়াহু ‘অতিরিক্ত ও অসমানুপাতিকভাবে’ সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তিনি লেবাননে বেসামরিক প্রাণহানি ও ভবন ধ্বংসের কৌশলের সমালোচনা করেন।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ দৃষ্টিভঙ্গি
পিউ জরিপে দেখা যায়, ৫৮ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক মনে করেন, বিশ্বে তাদের দেশের প্রতি সম্মান কমে যাওয়ার মূল কারণ ইহুদিবিরোধিতা বা আন্তর্জাতিক অজ্ঞতা। তবে অন্য দৃষ্টিভঙ্গি বলছে, গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে বেসামরিক প্রাণহানি বিশ্বজনমতকে প্রভাবিত করেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প রাজনৈতিক সীমারেখা ভেঙে বক্তব্য দিতে অভ্যস্ত। তাঁর মন্তব্য ইসরায়েল ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে বাড়তে থাকা জনরোষের ছাপ বহন করে। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য ট্রাম্পকে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সমর্থন এনে দিতে পারে, যা ভবিষ্যতে ইসরায়েল ইস্যুতে তাঁর অবস্থান আরও কঠোর করে তুলতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি
অতীতে বহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলি নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে পররাষ্ট্রনীতিতে বড় পরিবর্তন আসেনি। ট্রাম্পকে এই ধারার ব্যতিক্রম হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ তিনি রাজনৈতিকভাবে অনিশ্চিত এবং নিয়ম ভাঙতে অভ্যস্ত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েল সম্পর্কে জনমত আগের চেয়ে বেশি বিভক্ত, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।



