সিরাজদিখানে লালন আশ্রমে হামলা, বিএনপি নেতা আটক
সিরাজদিখানে লালন আশ্রমে হামলা, বিএনপি নেতা আটক

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার দোষরপাড়া গ্রামে অবস্থিত লালন সাঁইয়ের আশ্রমে (পদ্মহেম ধাম) হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় পদ্মহেম ধামের সভাপতি ও প্রথম আলোর ফিচার এবং নকশা বিভাগের প্রধান ফটোগ্রাফার কবির হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় তার ভাই তাকবির বাউলও আহত হন।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার দোষরপাড়া গ্রামের আশ্রম প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া জাহাঙ্গীর মাদবর নামে এক বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। জাহাঙ্গীর মাদবর উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালুরচর গ্রামে ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত লালন সাঁইয়ের এই আশ্রমটি স্থানীয়ভাবে পদ্মহেম ধাম বা বাউল বাড়ি নামে পরিচিত। প্রায় ২১ বছর আগে এটি প্রতিষ্ঠিত করেছেন সাংবাদিক কবির হোসেন। আজ আশ্রমের দখলকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, দোষরপাড়া ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে হামলাকারীরা আশ্রমে প্রবেশ করে কবির হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় তার ভাই তাকবির বাউলও আহত হন। পরে লালন ভক্ত, আশ্রমের অনুসারী ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে আহত কবির হোসেন বলেন, ‘গত ছয় মাস ধরে তারা আশ্রম উচ্ছেদ করার জন্য আমাকে কয়েকবার হুমকি দিয়েছিল। আজ বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি জাহাঙ্গীর কিছু লোকজন নিয়ে আশ্রমে এসে আমাদের ওপর হামলা চালান। দা দিয়ে কুপিয়ে আমার মাথায় গুরুতর জখম করা হয়।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, ‘আমি মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি শেখ মো. আব্দুল্লাহকেও অনুরোধ করেছিলাম যে, এই লালনের আখড়া গত ২১ বছর আগে বিএনপির আমলেই স্থাপিত হয়েছিল। এখন কিছু লোক ঝামেলা করছে। তাই আপনি এটির বিহিত করে দিন। এরমধ্যে আশ্রমে এসে হামলা করেছে তারা।’

জাহাঙ্গীর মাদবরের ভাই মোহসিন মাদবর বলেন, ‘কবির হোসেন আমাদের আত্মীয়। কিন্তু তারপরও তিনি লালন আখড়া স্থাপনের নামে আমাদেরসহ আশপাশের অনেকের জমি দখল করেছেন। লালনের আখড়ায় গেট লাগিয়ে গ্রামের রাস্তায় বাধা দিয়ে রেখেছেন। এসব নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।’

জমি নিয়ে বিরোধ হলে আইনের আশ্রয় না নিয়ে কুপিয়ে আহত করার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আগে কবিরের ভাই হামলা করেছে। তারপর পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা মামলার ভয় পাই না। কবিরকে বলেন ৫০টি মামলা দিতে। কোনও সমস্যা নেই।’

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘লালনের ওই আখড়ার একখণ্ড জমি নিয়ে কবির হোসেনের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের বিরোধ চলছিল। সেটি নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে আজ কবির হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীরকে আটক করেছে পুলিশ। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।’