তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে নিজের প্রথম সরকারি বিদেশ সফরে চীন যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক বিশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীন বেছে নেওয়া
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও ভুটান থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নিতে যাচ্ছেন। এই সফরে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত চুক্তিটিই মূল আকর্ষণ হতে চলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঢাকার নতুন সরকার পানি ব্যবস্থাপনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এই প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বেইজিংয়ের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে।
পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার বক্তব্য
সফরের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্যই একটি সুবিধাজনক সময়ে চীন সফর করবেন। তবে প্রথম বিদেশ সফরের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
চীনা রাষ্ট্রদূতের প্রতিক্রিয়া
ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এই সফরের ঘোষণাকে আসন্ন উল্লেখ করে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং চীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনা পরবর্তী যুগে বাংলাদেশের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতের 'চিকেনস নেক' করিডোরের কাছাকাছি অবস্থিত এই তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে দিল্লির গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
ভারতের প্রস্তাব ও বর্তমান অবস্থা
যদিও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক আগের মাসগুলোতে ভারত নিজেই এই প্রকল্পে অর্থায়নের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে নতুন সরকারের কাছে সেই প্রস্তাবটি বর্তমানে বিবেচনাধীন আছে কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে ভারতের সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা তিস্তা নদীর পানি বণ্টন চুক্তিটি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরোধিতার কারণে গত ১৫ বছর ধরে ঝুলে ছিল।
ভারতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব
তবে সম্প্রতি ভারতের লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করায় এই চুক্তির ক্ষেত্রেও নতুন করে অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখছেন কিছু পর্যবেক্ষক। তবে দুই পরাশক্তি ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতামূলক স্বার্থের মুখে নতুন প্রধানমন্ত্রী কীভাবে ভারসাম্য বজায় রাখেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়।



