অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে দিল্লিকে লেখা চিঠির কোনো উত্তর আসবে না তা তিনি আগেই জানতেন। যমুনা টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
চিঠির উত্তর নিয়ে যা বললেন
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চিঠির উত্তর কেন আসেনি—এ প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, “উত্তর কি আশা করেছিলাম আমরা? আমি আশা করিনি।” তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে পুরোপুরি আউট হয়ে যাচ্ছে না; বরং তারা ফিরে আসবে এবং আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ
তৌহিদ হোসেনের মতে, “আমাদের মানুষজনের স্মৃতিশক্তি খুব দীর্ঘ না।” তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হবে এবং দেশের পরবর্তী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত
সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে তাকে বলা হয় যে, এতে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হবে।
ডিপস্টেট ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ডিপস্টেট সক্রিয় ছিল কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, “ডিপস্টেট সমস্ত পৃথিবীতে প্রতিটা ঘটনার সঙ্গেই জড়িত থাকে।” তিনি উল্লেখ করেন, ডিপস্টেট স্রোতের বিপরীতে না গিয়ে ঘটনাগুলোকে ম্যানিপুলেট করে।
কিচেন কেবিনেটের অস্তিত্ব
‘কিচেন কেবিনেট’ প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, একবার যমুনায় ওই গোষ্ঠীর মিটিংয়ে তাকে যেতে হয়েছিল। পরে তিনি জানতে পারেন, প্রতি মঙ্গলবার তারা বসে সিদ্ধান্ত নেন। তার কানেও এ ধরনের কথা এসেছে, তবে এর বাইরে কিছু জানা ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি
ভোটের তিন দিন আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সে বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রী অথবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামান্যতম ইনভলভ ছিল না এটাতে।” তিনি জানান, চুক্তিটি করেছে কমার্স মিনিস্ট্রি ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার। কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলে এটি নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়াই যথাযথ হতো।



