মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি নিয়ে সমঝোতা ‘প্রায় চূড়ান্ত’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, শিগগিরই চুক্তির বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তির মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
ইরানের অবস্থান
ট্রাম্পের বক্তব্যের আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছিলেন, গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান অনেকটাই কাছাকাছি এসেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর অর্থ এই নয় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতা হয়ে গেছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘পরস্পরবিরোধী বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন।
সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে আলোচনা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, ‘শান্তি-সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক’ নিয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দেশের মধ্যে একটি চুক্তি নিয়ে বেশির ভাগ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে; এখন শুধু চূড়ান্ত অনুমোদন ও সমাপ্তি হওয়া বাকি।’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপ
ট্রাম্প জানান, গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে এবং ফোনালাপ ‘খুব ভালোভাবে’ সম্পন্ন হয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য না দিলেও ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো চুক্তিই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ‘অবশ্যই’ বিরত রাখবে।
পাকিস্তানের ভূমিকা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার অসাধারণ প্রচেষ্টার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানাই।’ তাঁদের (ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু) ফোনালাপ ‘খুব ফলপ্রসূ ও কার্যকর’ হয়েছে বলেও জানান শাহবাজ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি আলোচনায় পাকিস্তান সহায়তা করছে এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে শাহবাজ লেখেন, ‘আমরা খুব শিগগির পরবর্তী দফার আলোচনা আয়োজনের আশা করছি।’
পটভূমি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা শুরু করে। জবাবে ইরান পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও ইসরায়েলে হামলা চালায়। পাল্টাপাল্টি এ হামলার জেরে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এপ্রিলের শুরুতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়, যা এখনো চলছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য
গতকাল রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে কথা বলতে গিয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই একটি ‘সমঝোতা স্মারক’–এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরানের লক্ষ্য, একটি চুক্তিতে পৌঁছানো; যা ১৪টি পয়েন্ট নিয়ে গঠিত একটি কাঠামোর আকারে হবে। বাঘাই বলেন, তাঁরা বর্তমানে ওই সমঝোতা স্মারকটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় আছেন। শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।



