জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এলে ভারত কোনোভাবেই অত্যাচার করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। মঙ্গলবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বোনচৌকি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদিমুল ইসলামের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ও তার কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি ও আইন প্রণয়ন
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি যদি ক্ষমতায় আসতে পারে তাহলে শক্তিশালী পররাষ্ট্রনীতি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়াও এমন আইন তৈরি করা হবে যাতে ভারত বাংলাদেশিদের কোনোভাবেই অত্যাচার করতে না পারে এবং তারা যেন অনুপ্রবেশ করতে না পারে। তিনি আরও বলেন, আমরা ভারতের পক্ষেও না, আমেরিকার পক্ষেও না, চায়নার পক্ষেও না, আমরা বাংলাদেশের পক্ষে।
সরকারের সমালোচনা
তিনি আরও বলেন, সরকার এবং রাষ্ট্র সীমান্তের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ, সরকার নিরাপত্তা দেয় সন্ত্রাসীদের। যত বড় সন্ত্রাসী তত বড় নিরাপত্তা; যত বড় চাঁদাবাজ ততো বড় নিরাপত্তা। এই নিরাপত্তা দিয়ে সরকার সাপ পোষে।
খাদিমুল ইসলাম হত্যা প্রসঙ্গ
এর আগে গত ১৪ মে ওই সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন খাদিমুল ইসলাম নামে এক যুবক। খাদিমুল চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। তবে তার পরিবারের দাবি সে মানসিক প্রতিবন্ধী ছিল। নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, সরকার যদি সীমান্তের মানুষদের নিরাপত্তা দিতো তাহলে ভারত বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করতে পারত না। আমরা দেখেছি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শান্তকালীন সময়ে বাংলাদেশের নিরীহ মানুষদের বর্ডারে হত্যা করে যাচ্ছে ভারত।
বিজিবি ও সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করার আহ্বান
তিনি আরও বলেন, আমাদের বর্ডার গার্ড বাহিনীকে (বিজিবি) শক্তিশালী করতে হবে। বিজিবি শক্তিশালী করতে পারলে ভারত থেকে যে অনুপ্রবেশের চেষ্টা এবং বাংলাদেশি মানুষদের যে হত্যা করা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে পারব। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও শক্তিশালী করতে হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, সংগঠক রাসেল আহমেদ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার খাদেমুল ইসলাম (২৫) নামে ওই যুবক সীমান্তে গেলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত হন। নিহত খাদেমুল ইসলাম হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে।



