আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের বহুল আলোচিত ধর্ষণ ও খুন মামলায় ফের বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে এই মামলার তদন্তে জড়িত তিন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
সোমবার (১৮ মে) সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে অভয়ার নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন সুপার সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আগের সরকার দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত প্রক্রিয়া আটকে রেখেছিল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে চায় বর্তমান সরকার।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগেই আর জি কর কাণ্ডের তদন্তে গতি আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এবার সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
পুলিশ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত
এই মামলায় ইতোমধ্যেই তিন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত। নতুন সরকারের দাবি, তদন্তের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তের গভীরতা
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওই সময় কোনো রাজনৈতিক নির্দেশ ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের ফোন কলের তথ্য এবং বার্তা আদানপ্রদানের বিষয়ও খতিয়ে দেখা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তার বক্তব্য, এই ঘটনা শুধু রাজ্য নয়, গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল এবং পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
আন্দোলনের প্রভাব
আর জি কর কাণ্ডকে ঘিরে এর আগেও রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আন্দোলন হয়েছিল। চিকিৎসক সমাজ থেকে সাধারণ মানুষ, বহু সংগঠন রাস্তায় নেমে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি তুলেছিল। সেই আবেগ এখনও রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিরোধীদের অভিযোগ
বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, এই মামলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আবহ তৈরি করা হচ্ছে। যদিও বিজেপির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চাপা পড়ে থাকা তথ্য সামনে আনতেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাদের বক্তব্য, তদন্তে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ভূমিকা থাকলে তাকেও আইনের মুখোমুখি করা হবে।
বিশ্লেষকদের মত
বিশ্লেষকদের মতে, আর জি কর কাণ্ড এখন শুধু একটি অপরাধমূলক ঘটনা নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে। নতুন সরকার এই মামলার মাধ্যমে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং কঠোর অবস্থানের বার্তা দিতে চাইছে বলেও মত তাদের।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই তদন্তের অগ্রগতি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ এই মামলাকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘদিন ধরে সরকার এবং বিরোধীদের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলেছে। সব মিলিয়ে সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং তিন পুলিশ কর্মকর্তার বরখাস্তের ঘটনায় আর জি কর কাণ্ড ফের রাজ্যের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।



