জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেছেন, ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় আরও রাজনৈতিক সমর্থন, পর্যাপ্ত সম্পদ ও আধুনিক সক্ষমতা প্রয়োজন।
শান্তিরক্ষীদের ভূমিকা
জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনে 'সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা হ্রাস: কীভাবে জাতিসংঘের সামরিক শান্তিরক্ষীরা সংলাপ ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়' শীর্ষক এক পার্শ্ব অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত চৌধুরী উল্লেখ করেন, শান্তিরক্ষীরা ক্রমবর্ধমান জটিল সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
প্রধান চ্যালেঞ্জ
তিনি ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, দ্রুত প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং তহবিল ঘাটতিকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা (পিওসি) ম্যান্ডেট কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি শান্তিরক্ষীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিবর্তিত যুদ্ধ প্রযুক্তি সংক্রান্ত উদীয়মান হুমকি মোকাবিলায় সজ্জিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
গাজা ও রোহিঙ্গা প্রসঙ্গ
গাজা ও রোহিঙ্গা পরিস্থিতির মতো চলমান সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বেসামরিক হতাহতের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মানবিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং সংঘাত হ্রাসে সংলাপভিত্তিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
আলোচনা সভা
অনুষ্ঠানে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে অংশ নেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম বিভাগের শেরিল পিয়ার্স, হামফ্রে নিওন ও হারলি সিনাগার মতো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, উরুগুয়ে ও জাম্বিয়ার পাশাপাশি স্টিমসন সেন্টার এই অধিবেশনের সহ-আয়োজক ছিল। লিসা শারল্যান্ড সঞ্চালিত এই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও শান্তিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।



