রোহিঙ্গা সংকটে স্থানীয়করণ ও প্রত্যাবাসন রোডম্যাপের দাবি জানিয়েছে সিভিল সোসাইটি। রোহিঙ্গাদের স্থায়ী প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। সোমবার রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘কক্সবাজার সিএসও এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) এবং ইকুইটি জাস্টিটিজ ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইকুইটিবিডি)’ যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি উঠে আসে।
স্থানীয় এনজিওর জন্য তহবিলের অসম বণ্টন
সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা জানান, জাতিসংঘের নেতৃত্বে প্রতিবছর রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এই পরিকল্পনায় তহবিল বণ্টনে বৈষম্য রয়েছে। গত বছরের জেআরপির মোট ৯৩৪.৫ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৮৭ শতাংশ তহবিল জাতিসংঘের কাছে ছিল, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো পেয়েছে ৯ শতাংশ, অথচ স্থানীয় এনজিওর অংশ মাত্র ১ শতাংশেরও কম।
সিসিএনএফের সমন্বয়ক মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, “জাতিসংঘের নেতৃত্বে জেআরপি মূলত তহবিল সংগ্রহের একটি কাঠামো, যা জাতিসংঘ নির্ভর। এতে স্থানীয় সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ নগণ্য।” তিনি আরও জানান, জেআরপির কমপক্ষে ২৫ শতাংশ তহবিল স্থানীয় এনজিওর মাধ্যমে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক অবদান অবহেলিত
মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটে ব্যাপক আর্থিক সহায়তা দিয়েছে, এমনকি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েও সহায়তা করছে। কিন্তু এই অবদান বর্তমান জেআরপি কাঠামোয় প্রতিফলিত হয়নি। বরং এটি জাতিসংঘ-নির্ভর তহবিল সংগ্রহের একটি কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।”
প্রত্যাবাসন কমিশন ও জাতীয় সংসদে আলোচনার দাবি
ইকুইটিবিডির সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, “বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দায়িত্ব নিতে হবে। এজন্য রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কমিশন গঠন এবং জাতীয় সংসদে সংকট নিরসনে আলোচনা জরুরি। সিভিল সোসাইটি সংসদে আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান চায়।”
তিনি আরও বলেন, “রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো হয়েছে, তাই আগামী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ন্যায়বিচার ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সম্মেলনের আয়োজন করতে হবে, যার মূল উদ্দেশ্য হবে একটি প্রত্যাবাসন রোডম্যাপ গঠন।”
জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ইকুইটিবিডির প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কাজ করতে ইউএনএইচসিআর আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করছে, যেমন অ্যাক্টেড, অ্যাকশন এইড এবং ইউনিসেফ টিডিএইচ-এর মতো সংস্থা। অথচ তাদের কাজের অংশ স্থানীয় এনজিওর মাধ্যমে করার কথা, যা তারা করছে না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থায়ী আবাসন তৈরি করছে, কিন্তু সরকার, বন বিভাগ বা স্থানীয় জনগণের মতামত নেয়নি। নেপালের মতো দেশে সরকারের অনুমতি ছাড়া জাতিসংঘ কাজ করতে পারে না। বাংলাদেশেও দেশের স্বার্থ রক্ষায় জাতিসংঘের সব কাজের জন্য সরকারের অনুমতি নেওয়া উচিত।”
সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিলেন ইকুইটিবিডির সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ ও মো. ইকবাল উদ্দিন এবং সিসিএনএফের সমন্বয়ক মো. শাহিনুর ইসলাম।



