চরম অস্থিরতায় ব্রিটেন: পদত্যাগের প্রস্তুতি কিয়ার স্টারমারের
চরম অস্থিরতায় ব্রিটেন: পদত্যাগের প্রস্তুতি স্টারমারের

চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিয়ার স্টারমার। সুনির্দিষ্ট সময়ে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে ইতোমধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের কাছে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন ব্রিটিশ এই প্রধানমন্ত্রী। রোববার (১৭ মে) কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পদত্যাগের প্রস্তুতি

দেশটির মন্ত্রিসভার এক সদস্যের বরাত দিয়ে ডেইলি মেইল বলেছে, স্টারমার প্রধানন্ত্রীর পদ ছাড়তে প্রস্তুত। তবে তিনি তা করবেন ‘নিজের শর্তে’। সংশ্লিষ্ট ওই সূত্র বলেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বুঝতে পেরেছেন যে বর্তমান বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি আর টেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তিনি স্রেফ মর্যাদার সঙ্গে এবং নিজের পছন্দমতো সময়ে বিদায় নিতে চান। শিগগিরই এই বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করবেন তিনি।

সংকটে ব্রিটিশ সরকার

স্টারমার প্রশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের মুখে বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে লেবার পার্টির সরকার। পিটার মেন্ডেলসনকে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ও শিশু যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা থেকে শুরু করে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি। সব মিলিয়ে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি এখন তুঙ্গে। সবশেষ বড় ধাক্কাটি এসেছে স্টারমার মন্ত্রিসভার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। শনিবার ১৬ মে স্ট্রিটিং জানান, লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে তিনি স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাবেন। এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নিজেকে শামিল করার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। দেশটির সাবেক এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টারমারকে তার বিদায়ের ‘সময়সূচি’ নির্ধারণ করারও আহ্বান জানিয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জনপ্রিয়তা হারাচ্ছেন স্টারমার

ব্রিটেনের এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে যোগ হয়েছে স্টারমারের জনপ্রিয়তায় বড় ধস। ইউগভ ইউকের এক জরিপে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৬৯ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক এই লেবার প্রধানমন্ত্রীর ব্যাপারে ‘নেতিবাচক’ মনোভাব পোষণ করেন। ইউগভ বলেছে, স্টারমার বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী। অনেকেই তার এই পরিস্থিতির সঙ্গে লিজ ট্রাসের সংক্ষিপ্ত ৪৯ দিনের প্রধানমন্ত্রিত্বের তুলনা করছেন। এদিকে, স্টারমারের নিজের রাজনৈতিক দলও তার নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারাচ্ছে। অনেক লেবার এমপির আশঙ্কা, স্টারমারের এই জনপ্রিয়তা হ্রাসের ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে লেবার পার্টির ক্ষমতায় ফেরার পথ রুদ্ধ হতে পারে। এর ফলে দেশটি নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকের হাতে চলে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।