ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১৫ মে) রংপুর শিল্পকলা একাডেমি হল রুমে এক সুধী সমাবেশে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
চুক্তি নিয়ে জামায়াত আমিরের অভিযোগ
জামায়াত আমির বলেছেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সে বিষয়ে জনগণ বা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি এই চুক্তিকে গোপনীয়তার অভিযোগে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
সংসদের ভূমিকা ও সংস্কার
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ হবে রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। রাষ্ট্রের ভালো-মন্দ নিয়ে এখানে আলোচনা হবে। তিনি সংসদে আগের নোংরা সংস্কৃতির সমালোচনা করে বলেন, আগে সংসদে গান-নাচ, চরিত্র হনন ও গালিগালাজ হয়েছে, যা তারা আর দেখতে চান না। তিনি আশাবাদী, এই নোংরা সংস্কৃতি বন্ধ হবে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে, তাই জনগণের কথা বলতে হবে। দেশের উন্নয়নের কাজের কথা বলতে হবে এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা রয়েছে।
সরকারের সমর্থন ও সমালোচনা
জামায়াত আমির বলেন, আমরা সরকারকে বলেছি: ভালো কাজ করলে সমর্থন ও সহযোগিতা করব, খারাপ কাজ করলে সমালোচনা করব এবং রুখে দাঁড়াব। তিনি জ্বালানি তেল সংকটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সংসদে নোটিশ দেওয়ার পর সরকার আলোচনায় বাধ্য হয় এবং একটি কমিটি গঠন করে, যা দুই দিনের মধ্যে সংকট সমাধান করে। তিনি কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ উড়িয়ে দেন।
গণভোট ও প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা
ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা গণভোটকে অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করেছে এবং দুর্বল ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ দিয়েছে। এছাড়া, দেশের ৪২টি জেলায় দলীয় লোকজনকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও তিস্তা প্রসঙ্গ
তিনি স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন চলবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় লোকজনকে ভিসি, প্রোভিসি, প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ নানা পদে নিয়োগের সমালোচনা করেন।
পদ্মা ব্যারাজের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তিস্তার স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো উন্নয়ন মেনে নেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। উত্তরের নদীগুলো এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তিস্তাপারের মানুষের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানান।
ধর্মীয় নির্যাতনের প্রতিবাদ
ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারো ওপর হামলা বা নির্যাতনের কোনো বৈধতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশে উপস্থিতি ও প্রার্থী ঘোষণা
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবার রহমান বেলালসহ অন্যরা। শেষে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানের নাম ঘোষণা করা হয়।
এর আগে সকালে জামায়াতের আমির রংপুর নগরীর মডেল কলেজ মিলনায়তনে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের আয়োজিত উপজেলা ও থানা আমিরদের নিয়ে বিভাগীয় সম্মেলনে যোগ দেন।



