ওমানের উত্তর উপকূলে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি ভারতীয় মালবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। বুধবার ভোরে ওমানের লিমা এলাকার কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে জাহাজে থাকা ১৪ জন ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে ওমান কর্তৃপক্ষ। ভারত সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে।
জাহাজ ও হামলার বিবরণ
গুজরাটের দেবভূমি দ্বারকা জেলার সালায়া বন্দরে নিবন্ধিত ‘হাজি আলী’ নামের জাহাজটি সোমালিয়া থেকে গবাদিপশু নিয়ে শারজাহর দিকে যাচ্ছিল। বুধবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে ওমান উপকূল দিয়ে যাওয়ার সময় ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা একটি অজ্ঞাত বিস্ফোরক বস্তু জাহাজটিতে আঘাত হানে। এতে সঙ্গে সঙ্গে জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে জাহাজটি সমুদ্রে তলিয়ে যায়।
উদ্ধার অভিযান
জাহাজটিতে থাকা ১ জন তান্ডেল ও ১৩ জন নাবিক দ্রুত লাইফবোটের মাধ্যমে জাহাজ থেকে সরে যেতে সক্ষম হন। ওমান কোস্টগার্ড দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাদের নিরাপদে দিবা বন্দরে নিয়ে আসে। জাহাজের মালিক সুলতান আহমেদ সাঙ্ঘার নিশ্চিত করেছেন যে সবাই সুস্থ আছেন।
ভারতের প্রতিক্রিয়া
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় বলেছে, ‘ওমান উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে গতকালের হামলা অগ্রহণযোগ্য। বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টির আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বেসামরিক জাহাজ এবং নিরপরাধ নাবিকদের নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত করা উচিত নয়। নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা দেয় এমন কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলা জরুরি। ওমান কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও এখন পর্যন্ত হামলার দায় কেউ স্বীকার করেনি।
সালায়া বন্দরে আতঙ্ক
এক সপ্তাহের মধ্যে এটি গুজরাটের সালায়া বন্দরের দ্বিতীয় কোনো জাহাজ ডুবির ঘটনা। এর আগে হরমুজ প্রণালিতে আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে পড়ে আল ফয়েজ নূর সুলেমানি-১ নামের আরেকটি জাহাজ ডুবে যায়। একের পর এক এমন ঘটনায় গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী সামুদ্রিক খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।



