ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তিন দিনের এক সরকারি সফরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান থেকে এটিই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর।
ব্রিকস বৈঠকে অংশগ্রহণ
আরাগচি মূলত ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দুই দিনের বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে এলেও, এই সফরের পার্শ্ববৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় বসবেন। তাদের আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের বিষয়টি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। আব্বাস আরাগচি যে বিমানে চড়ে দিল্লিতে অবতরণ করেছেন, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিনাব ১৬৮’। এটি মূলত একটি প্রতীকী নাম, যা যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারানো ১৬৮ জন স্কুলছাত্রীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি সংকট
আরাগচি ও জয়শঙ্করের মধ্যকার বৈঠকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচিত হবে ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। নয়াদিল্লি এই বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের বিষয়ে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ
ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়া অন্যান্য প্রতিনিধিদের সাথে বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গেও দেখা করবেন আরাগচি। এ ছাড়া ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম ঘারিবাবাদি জানিয়েছেন, ব্রিকসের মতো শক্তিশালী জোটে ইরানের সক্রিয় উপস্থিতি বিশ্ব রাজনীতিতে একটি ন্যায়সংগত ভারসাম্য তৈরির কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
তেহরান মনে করে, ব্রিকস সম্মেলন গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সুশাসনে সংস্কার আনার একটি বড় সুযোগ। ইরান বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরোধিতা করে একটি স্বাধীন বাণিজ্য ও ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে।
ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জ
ভারত বর্তমানে ব্রিকসের সভাপতি হিসেবে এই সম্মেলনের আয়োজন করছে, যা আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের একটি প্রস্তুতিমূলক অংশ। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ নিয়ে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতভেদ থাকায় একটি সর্বসম্মত যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা ভারতের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিককালে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধ এই ঐকমত্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান ইতিমধ্যেই ভারতকে অনুরোধ করেছে যেন তারা বর্তমান সভাপতি হিসেবে নিজেদের ‘স্বাধীন ভূমিকা’ ব্যবহার করে এই যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সূত্র: এনডিটিভি



