কেরালার বিধানসভা নির্বাচনে ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ) নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার ১০ দিন পার হয়ে গেলেও কে হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, তা নিয়ে কাটছে না চরম অনিশ্চয়তা। মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার হিসেবে কংগ্রেসে এখন তিনটি শক্তিশালী পক্ষ: কে সি ভেনুগোপাল, ভি ডি সতীশন ও রমেশ চেন্নিথালা। এই অচলাবস্থা নিরসনে মঙ্গলবার দিল্লিতে সাবেক রাজ্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাহুল গান্ধী। তবে এরই মধ্যে কেরালাজুড়ে ভেনুগোপাল-বিরোধী পোস্টার এবং গান্ধী পরিবারের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি সংঘাতের নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
পোস্টার যুদ্ধ
দিল্লিতে যখন বৈঠক চলছে, তখন কেরালা জেলা কংগ্রেস কমিটির কার্যালয়ের সামনে রহস্যময় সব পোস্টার দেখা গেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর শেষ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী পদের লড়াইয়ে নামা ভেনুগোপালের বিরোধিতা করে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে লক্ষ্য করে এসব পোস্টার লাগানো হয়েছে।
একটি পোস্টারে লেখা ছিল, ‘মি. রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা, ওয়ানাড়ের কথা ভুলে যান। এখান থেকে আপনারা আর জিততে পারবেন না।’ অন্য একটিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘রাহুলজি, কে সি (ভেনুগোপাল) আপনার ব্যাগ বহনকারী হতে পারেন, কিন্তু কেরালার মানুষ আপনাকে কখনোই ক্ষমা করবে না।’ এমনকি ২০১৯ সালে আমেথিতে রাহুলের পরাজয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, এভাবে চললে ওয়ানাড় হবে ‘পরবর্তী আমেথি’। একটি পোস্টারে একে সরাসরি ‘হুঁশিয়ারি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ‘ভুল সিদ্ধান্তের’ জন্য কেরালা ক্ষমা করবে না।
ভেনুগোপালের অবস্থান
নির্বাচনি জয়ের নেপথ্য কারিগর হিসেবে ভি ডি সতীশন এবং রমেশ চেন্নিথালাকে দেখা হলেও ভেনুগোপাল গান্ধী পরিবারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় লড়াইয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন। দলের অনেক বিধায়ক ভেনুগোপালের বিরাগভাজন না হওয়ার ভয়ে এআইসিসি পর্যবেক্ষকদের কাছে তার নাম প্রস্তাব করেছেন বলে জানা গেছে। তবে মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ সতীশন ও চেন্নিথালার পক্ষে।
শরিকদের অস্বস্তি
মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে এই দীর্ঘসূত্রতায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে ইউডিএফের শরিক দলগুলো, বিশেষ করে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল)। লিগের নেতারা প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়ে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তহীনতা জনগণের কাছে ভুল বার্তা দিচ্ছে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে অর্জিত জয়ের গতি কমিয়ে দিচ্ছে।
বিরোধীদের আক্রমণ
এই সুযোগ হাতছাড়া করেনি বিজেপি ও এলডিএফ। কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে আক্রমণ করে তারা বলছে, স্পষ্ট জনমত পাওয়ার পরও একটি ঐক্যমতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়ে কংগ্রেস ভোটারদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।



