প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এমন এক সময় সরকার গঠন করেছে যখন দেশের সবকিছুই যেন এলোমেলো। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসন ও লুটপাটে জীর্ণ অর্থনীতি, শিক্ষা-সংস্কৃতি নিম্নমুখী এবং রাষ্ট্রের সব কাঠামোতেই অবিশ্বাস বিরাজ করছে। ফ্যাসিবাদের দোসর ও গুপ্ত-সুপ্ত লুটপাটে প্রশাসন বিপর্যস্ত। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে উপজেলা প্রশাসন পর্যন্ত মানুষের আস্থা ফেরানোর চেষ্টায় তুমুল সমালোচনার সূত্রপাত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
রোববার ৫ জুলাই ২০২৬ বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকারি সব কাজের ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞাটি তারেক রহমান নিজেই জরুরিভিত্তিতে সিদ্ধান্ত দিয়ে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। ঘটনা হলো, প্রধানমন্ত্রী গুলশানের বাসা থেকে বেরিয়ে রাস্তায় বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন-পোস্টারে সরকারি প্রকল্পের স্লোগান ও বড় করে তার ছবি দেখতে পান। প্রচারণার বিষয়ের চেয়ে ছবি বড় করে ছাপা হয়েছে দেখে তিনি মন্ত্রিপরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ছবির বদলে প্রচারণার বিষয়কে বড় করে লেখার নির্দেশনা দেন।
ছবি নিষেধাজ্ঞার পেছনের কারণ
২০১৫ সালে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ‘তারেক রহমান কী রাষ্ট্রনায়ক হতে পারবেন?’ শিরোনামের একটি লেখায় অ্যারিস্টটলের উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছিল: ‘রাষ্ট্রনায়ক তার সহনাগরিকদের নির্দিষ্ট নৈতিক চরিত্র বিকাশে উদ্বিগ্ন থাকেন, বিশেষ করে উন্নত বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন কর্মের গুণ ও কর্মক্ষমতার বিন্যাস ঘটাতে।’ লেখক ব্যারিস্টার মাহাবুবুর রহমানের মতে, প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ নানাবিধ জনমুখী উদ্যোগ সেই দর্শনের বাস্তবায়ন।
জনমুখী উদ্যোগের তালিকা
- সবার জন্য খাবার মেনুতে কৃচ্ছ্রতা সাধন
- সংসদ সদস্যদের সরকারি প্লট ও গাড়ি না নেওয়া
- পোস্টার-ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
- প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে সমন্বিত উদ্যোগে দেশগঠনের আহ্বান
বিএনপির চ্যালেঞ্জ
২০ বছর পর ক্ষমতায় আসা বিএনপির কার্যক্রমে বড় সমস্যা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগ ও সংসদ সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অভাব দৃশ্যমান। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গৃহীত জনমুখী পদক্ষেপগুলো জনগণের দুয়ারে পৌঁছানোর সংবাদ মিডিয়ায় দৃশ্যমান নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারি দলের নেতাকর্মীদের না পাওয়ার বেদনা স্পষ্ট।
বিরোধী দলের ভূমিকা
প্রশাসন ব্যবস্থা ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দলীয়করণের কারণে ভঙ্গুর। অপেক্ষাকৃত দক্ষদের দিয়ে প্রশাসন চালানোর চেষ্টা করছে সরকার, কিন্তু নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নানাভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপির দায়িত্বশীল ভূমিকা দেখা যায় না।
সফলতার পথ
ব্যারিস্টার মাহাবুবুর রহমান বলেন, ‘তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে- কোন পথে তারেক রহমান সফল হতে পারেন? কত বছর ক্ষমতায় থাকলে তিনি সফল হবেন? মূলত ক্ষমতায় স্থায়ীত্ব দিয়ে সফলতা বিচার করা যায় না। চলমান ঝুঁকিপূর্ণ বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে পারলে তারেক রহমান সফল হতে পারেন। আর এজন্য দরকার একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লব।’
অর্থনৈতিক উদ্যোগ
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে উন্নয়ন সহযোগিতার আহ্বান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সফর করেছেন মালয়েশিয়া ও চীন। এই দু’দেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক বিপ্লবের প্রভাব কিভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নিশ্চিত করা যায় তা নিয়ে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও চীনের রাষ্ট্রপতিসহ শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে বেশকিছু চুক্তি করেছেন। চীন, ভারত বা যুক্তরাষ্ট্রমুখীতা নয়; সবার সাথেই কাজ করার আগ্রহ নিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্বার্থ নিশ্চিত করতে ছুটে চলবেন তারেক রহমান।
জাতীয় অধ্যাপকের বক্তব্য
বিশিষ্ট রাষ্ট্র দার্শনিক জাতীয় অধ্যাপক ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘বাংলাদেশি রাষ্ট্র রক্ষার জন্য জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শন রক্ষা করা জরুরি। আর এজন্যই তারেক রহমানকে আমাদের সেভ করতে হবে।’ লেখক উপসংহারে বলেন, ‘তারেক রহমান ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র ব্যর্থ হবে।’



