২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে ২-৩ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর ফরাসি রেফারি ফ্রঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন মিশরের খেলোয়াড় ও কোচ হাসান। ম্যাচ শেষে আবেগঘন মুহূর্তে মিশরীয় ফরোয়ার্ড মুস্তাফা জিকো সাংবাদিকদের বলেন, ‘রেফারি নিরপেক্ষ ছিলেন না, ন্যায্যও ছিলেন না। তিনি স্পষ্টভাবে আমাদের সঙ্গে অন্যায় করেছেন এবং পুরো একটা দেশের পরিশ্রম নষ্ট করে দিয়েছেন। শুরুর মিনিট থেকেই তিনি খেলোয়াড়দের মধ্যে নেতিবাচক অনুভূতি তৈরি করেছেন। আল্লাহ সাক্ষী থাকুক। এই টুর্নামেন্ট পাতানো।’
ম্যাচের ঘটনাপ্রবাহ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্ত
মিশর ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল। এরপর আর্জেন্টিনার হয়ে গোল করেন ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর সমতা টানেন লিওনেল মেসি। আর যোগ করা সময়ের দুই মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ। তবে মিশরের অভিযোগ, ৫৮ মিনিটে মুস্তাফা জিকোর একটি গোল বাতিল করেন রেফারি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এছাড়া প্রথমার্ধে মিশরের আরেকটি গোল ভিএআর যাচাইয়ের পর বাতিল হয়। যোগ করা সময়ের শেষ দিকে বক্সের ভেতর একটি কড়া ট্যাকল রিভিউ না করায়ও ক্ষুব্ধ ছিল মিশর।
কোচ হাসানের প্রতিক্রিয়া
মিশর কোচ হাসান বলেন, ‘আমি এই ফলাফলে সন্তুষ্ট না। ম্যাচে যেভাবে ঘটনা ঘটেছে, তাতেও আমি সন্তুষ্ট না। আমি সুন্দর করে বা বেছে বেছে শব্দ ব্যবহার করে বলতে চাই না যে দুর্ভাগ্য, এসব বলতে চাই না। আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি।’ তিনি জানান, রেফারি হিসেবে লেতেক্সিয়েরকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল মিশর, কারণ তিনি ফ্রান্সের নাগরিক। অতিরিক্ত সময়ের নয় মিনিটে ভিএআর রিভিউ না হওয়ায় আপত্তি জানানোর পর হাসানকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।
সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন
দুই গোলে এগিয়ে থেকেও ম্যাচের সময়সূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হাসান। আটলান্টায় দুপুর ১২টায় ম্যাচ রাখায় তিনি বলেন, ‘যে বা যারা এসব ম্যাচের সময়সূচি ঠিক করে, তারা কখনো ফুটবল খেলেনি বলেই আমি মনে করি। এর সঙ্গে ফুটবলের কোনো সম্পর্ক নেই, কারণ দুপুর ১২টায় কখনো ফুটবল ম্যাচের সময় রাখা হয় না। দুপুরে মানুষ হাঁটতে যায়, একটু বাতাস নিতে যায়, হয়তো ব্রাঞ্চ করতে যায়, কিন্তু খেলতে যায় না। মাঠে নামে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়রা কখন খাবে? তাদের কি সকাল সাড়ে ৭টায় খাবার খেয়ে দুপুরে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে? কেউ কি সবাইকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছে?’
বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব
হাসান বলেন, ‘মাঠে ও মাঠের বাইরে অনেক কিছু নিয়েই প্রশ্ন তোলার আছে। চারদিকে নেতিবাচক দিক। এটা শুধু বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্ন, যেভাবে সব ঘটেছে তাতে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব আছে।’ তিনি শেষে বলেন, ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। কিন্তু আমরা যা প্রাপ্য ছিলাম, তা পাইনি।’ ২০২৬ বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ না দেখার প্রতিজ্ঞা করেছেন হাসান।



