শরীয়তপুর-ঢাকা সড়কের চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। ২০২০ সালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় শরীয়তপুর থেকে পদ্মা সেতুর এক্সপ্রেসওয়ের নাওডোবা পর্যন্ত ২৭ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করতে ১ হাজার ৬৮২ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়। পরের বছর নির্মাণকাজ শুরু হলেও ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ হয়নি।
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা ও ভোগান্তি
প্রকল্পের আওতায় ৩৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের কথা থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় এক হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন এই পথে চলাচল করছে। সদর উপজেলার কোটাপাড়া এলাকায় কীর্তিনাশা নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুর অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মিত না হওয়ায় এখনো পুরোনো সেতু ব্যবহার করা হচ্ছে। জাজিরার কাজীরহাট এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর কাজ আংশিক শেষ করে ফেলে রাখা হয়েছে। যাত্রীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।
ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক ব্যর্থতা
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ দাবি করছে, ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়ার কারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারেনি। তবে প্রকল্প শুরুর এত বছর পরও ভূমি অধিগ্রহণের মতো মৌলিক জটিলতা নিরসন করতে না পারাটা হতাশাজনক। এটি প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতারই বহিঃপ্রকাশ, যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
ঠিকাদারের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন ও কর্তৃপক্ষের অনিশ্চয়তা
দুই দফায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় তৃতীয় দফায় ঠিকাদার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছেন। প্রকল্প কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অনিশ্চয়তা আরও হতাশাজনক। এই দীর্ঘসূত্রতা, সমন্বয়হীনতা এবং অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সামগ্রিক প্রতিচ্ছবিরই অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও প্রত্যাশা
জনভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে অনতিবিলম্বে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার সমাধান করতে হবে। কর্তৃপক্ষকে সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতুর কাজ সম্পন্ন করে জনগণকে ভোগান্তির হাত থেকে রেহাই দিতে হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



