থানা হামলা মামলায় দুই সাংবাদিককে জড়ানোর অভিযোগ
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দৈনিক যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম ও আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এফ.এম নাজমুল রিপনকে আসামি করা হয়েছে। এই দুই সাংবাদিককে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা, কে.এম আজাদ রহমান, সহ-সভাপতি এইচ.এম মাসুম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর বিশ্বাস ননী, সদস্য বরুন বাড়ৈ, মানিক হাওলাদার ও স্বপন দাস।
বক্তারা বলেন, ষড়যন্ত্র করে হয়রানির উদ্দেশ্যে ওই দুই সাংবাদিককে মামলায় জড়ানো হয়েছে। থানায় হামলার ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক প্রথমে হাসপাতালে ও পরে থানায় গিয়ে ভাঙচুরের দৃশ্য ও আহত পুলিশদের ভিডিও করেন। তারা শুধু সংবাদ সংগ্রহের জন্যই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। নিরপেক্ষ তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা। তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে ওই দুই সাংবাদিককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান।
সাংবাদিকদের বক্তব্য
আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি মাদকসহ চারজনকে আটক করে পুলিশ টাকার বিনিময়ে তিনজনকে ছেড়ে দিয়ে একজনকে আদালতে সোপর্দ করে। এ সংবাদ যুগান্তরসহ চার-পাঁচটি দৈনিক পত্রিকা ও নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হলে থানা পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে এক মাদক বিক্রেতাকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় ডিজি দায়ের করায়। তিনি বলেন, “ষড়যন্ত্র করে হয়রানির উদ্দেশ্যে আমাকে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি তথ্যমন্ত্রীসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এফ.এম নাজমুল রিপন বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদের জের ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র তার বিরুদ্ধে থানায় ছয়টি জিডি করেছে। তিনি বলেন, “থানায় হামলার ঘটনায় আমরা প্রশাসনের পাশে থেকে নিউজ দিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। তারপরও আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।”
থানার ওসির বক্তব্য
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, ভিডিও ফুটেজ, প্রাথমিক তদন্ত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হামলাকারী ও হামলায় উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। তিনি বলেন, “তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে হয়রানি করা হবে না এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগভাবে মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করা হবে।”
ঘটনার পটভূমি
গত ৮ জুলাই রাতে একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে রিয়াজ ফকিরকে গ্রেফতার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। থানা হাজতে দেয়ালের সঙ্গে রিয়াজ নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন রিয়াজ ফকির পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এ সময় হামলা, ভাঙচুর ও কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করে বরিশাল আদালতে সোপর্দ করলে আদালতের বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।



