প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের বাণী: তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় অংশীদার হওয়ার আহ্বান
প্রধানমন্ত্রীর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের বাণী: তরুণদের সক্রিয় অংশীদার হওয়ার আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। শুক্রবার (১০ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া বিশেষ বাণীতে তিনি জনমিতিক সম্ভাবনাকে টেকসই উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করতে তরুণ প্রজন্মকে দিবসটির চেতনা ধারণ ও বাস্তবায়নে সক্রিয় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের প্রতিপাদ্য ও সরকারের দর্শন

এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘রিয়ালাইজিং দ্য হোপস অ্যান্ড অ্যাসপিরেসনস অব ইয়াং পিপল টুডে অ্যান্ড ফর দ্য ফিউচার’ (তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রস্তুতিতে সুন্দর আগামী গড়ি), যা বর্তমান সরকারের জাতীয় উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

তথ্যপ্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির চালিকাশক্তি তরুণরা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন একটি প্রজন্মের ওপর, যারা হবে শিক্ষিত, দক্ষ, প্রযুক্তিবান্ধব, সুস্থ, মানবিক ও উদ্ভাবনী।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, তরুণদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বিকাশে রাষ্ট্রকে এমন একটি উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে তারা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা লাভ করবে এবং নিজেদের ইচ্ছা, সক্ষমতা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সুখী পরিবার গড়ে তুলতে পারবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আজকের তরুণরাই তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির প্রধান শক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সরকার এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যেখানে প্রতিটি তরুণ-তরুণী যুগোপযোগী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারে নিজেদের সক্ষমতার স্বাক্ষর রাখবে এবং জাতীয় উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা

একটি উন্নত জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো সুস্থ জনগোষ্ঠী। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার সবার জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করা, প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে, যা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি সুদৃঢ় করবে।

বড় চ্যালেঞ্জ: বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব ও অপুষ্টি

জাতীয় অগ্রগতির পথে এখনও কিছু সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে বলে বাণীতে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্যে অন্যতম হলো— বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব এবং অপুষ্টি। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এসব সমস্যা শুধু একজন কিশোরী বা একটি পরিবারের নয়; এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষার ধারাবাহিকতা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক জাতীয় উৎপাদনশীলতার ওপর।”

এই চ্যালেঞ্জগুলো দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলায় সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কিশোর-কিশোরীদের জন্য মানসম্মত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, পুষ্টি উন্নয়ন এবং জীবনদক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও সেবা জোরদারে সমন্বিত বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে তিনি জানান।

তরুণদের ভূমিকা ও সরকারের অঙ্গীকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাণীতে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, “প্রতিটি তরুণ-তরুণী যদি সুস্থ, শিক্ষিত, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে বেড়ে ওঠার সমান সুযোগ পায়, তবে তারাই আগামী দিনের সম্ভাবনাময়, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।” পরিশেষে, তিনি বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।