বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অধিকাংশ অভিযোগ ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে এবং সেগুলো ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। আজ সোমবার বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে বিদ্যুৎ বিভাগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
বিল বৃদ্ধির কারণ
বিদ্যুৎ বিভাগের লিখিত বক্তব্যে সচিব মিরানা মাহরুখ জানান, জুন মাসের বিল বৃদ্ধির প্রধান কারণ ট্যারিফ বৃদ্ধি নয়, বরং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া। আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহার বাড়লে উচ্চতর স্ল্যাবে বিল গণনা হওয়ায় মোট বিল তুলনামূলক বেশি হতে পারে। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে করণিক ভুল পাওয়া গেছে, যা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সংশোধন করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত, ঈদুল আজহা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, চলমান ফুটবল বিশ্বকাপ এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কারণে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। বাসাবাড়িতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহারও আগের তুলনায় অনেক বেশি বেড়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও বৈদ্যুতিক সামগ্রীর ব্যবহার উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।
লোডশেডিংয়ের বৈষম্য
গ্রামে বাড়তি লোডশেডিং নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও বিকেন্দ্রীকরণ করা যায়নি। বিভিন্ন কারণেই ঢাকার গুরুত্ব বেশি, তাই লোডশেডিংয়ের বৈষম্য দূর করা যাচ্ছে না। তবে বিএনপি সরকার বৈষম্য চায় না এবং এটি দূর করার প্রচেষ্টা চলছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিদ্যুৎ খাতের সমস্যা ফ্যাসিস্ট সরকারের ভুল নীতির কারণে হয়েছে, যা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে এখনকার সরকার। বিএনপি সরকার স্বাবলম্বী হতে চায় এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে জোর দিচ্ছে। সরকারের মেয়াদ শেষে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অন্তত ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে।
অতিরিক্ত সক্ষমতা ও চুক্তি পর্যালোচনা
আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বছর সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার মেগাওয়াট, যার সঙ্গে ২০ শতাংশ (১৮০০ মেগাওয়াট) রিজার্ভ ক্যাপাসিটি থাকতে পারে। অথচ ১২ হাজার মেগাওয়াট বাড়তি সক্ষমতা রয়েছে, যা বছরের পর বছর বসিয়ে রেখে কেন্দ্র ভাড়া দিতে হচ্ছে। ভর্তুকি বাড়ছে, অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। রাষ্ট্রের স্বার্থ নিশ্চিত না করেই বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করা হয়েছে। এখন চুক্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং ট্যারিফ কমানোর আলোচনা চলছে।
পিডিবির বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে পিডিবির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, বিশ্বকাপের কারণে সারা রাত বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়তি থাকছে, ফলে পিকিং বিদ্যুৎকেন্দ্র রাতে বেশি চালাতে হয় এবং দিনে বিশ্রাম দিতে হয়। এতে কিছুটা বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, যা শিগগিরই কেটে যাবে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে। জুন থেকে বাড়তি বিল আসছে, যা পিডিবি আগস্ট থেকে পেতে শুরু করবে।
মিটারের ভাড়া
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ছয়টি বিতরণ সংস্থা গ্রাহকদের এককালীন মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে অথবা কিস্তিতে মিটার সরবরাহ করে। যেসব গ্রাহক এককালীন মূল্য পরিশোধ করেন, তাঁদের কাছ থেকে কোনো কিস্তি নেওয়া হয় না। শুধু যেসব গ্রাহক কিস্তিতে মিটার সংযোগ গ্রহণ করেন, তাঁরা মাসিক কিস্তি পরিশোধ করেন। সিঙ্গেল ফেজ মিটারের কিস্তি প্রতি মাসে ৪০ টাকা এবং থ্রি ফেজ মিটারের কিস্তি প্রতি মাসে ২৫০ টাকা।



