রাজধানীর গুলিস্তানে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের মিছিলে হামলার ঘটনায় পুলিশের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। শনিবার (৪ জুলাই) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামলায় আহত ব্যবসায়ীদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ মন্তব্য করেন।
পুলিশের ভূমিকা সন্দেহজনক
বুলবুল বলেন, বিকাল ৫টার দিকে ব্যবসায়ীদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত করার পরও এখন পর্যন্ত পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে তারা জনগণের জন্য নয়, বরং সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের জন্য কাজ করছে। তার দাবি, চাঁদাবাজদের সন্ত্রাসী হামলার পরও পুলিশের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া ‘সন্দেহজনক’।
গ্রেফতারে ব্যর্থতার সতর্কবার্তা
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের ওপর হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কোন দলের কারা এতে সম্পৃক্ত, পুলিশ তা জানে। কিন্তু এরপরও তাদের গ্রেফতারে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অবিলম্বে হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের গ্রেফতার না করা হলে ব্যবসায়ী সমাজ পুলিশের বিরুদ্ধে রাজপথে নামতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
জিরো-টলারেন্স নীতির আহ্বান
জামায়াতের এই নেতা বলেন, খুনি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা দেশ ও জাতির শত্রু, তাদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। যারা এসব অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়, তারাও দেশ ও জাতির শত্রু বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের চেতনায় ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। খুনি, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে তারা আবারও রাজপথে নামতে পারে। তাই সরকারের উচিত নিজের স্বার্থেই সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।
সরকারের প্রতি আহ্বান
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কঠোরভাবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বুলবুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান, কর্মপরিষদ সদস্য শাহীন আহমেদ খান, সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, শাহবাগ পশ্চিম থানা আমির অ্যাডভোকেট শাহ মাহফুজুল হক, শাহবাগ পূর্ব থানা আমির আহসান হাবিব, রমনা থানা আমির আতিকুর রহমানসহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।



