২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘জীবন বান্ধব বাজেট’ নামে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৮তম দিনে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ নামকরণ করেন।
বাজেটের নামকরণ ও তাৎপর্য
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা যে বাজেট উপস্থাপন করছি, এই বাজেটকে আমি একটি নামকরণ দিতে চাই। সেটি হচ্ছে—জীবন বান্ধব বাজেট।’ তিনি উল্লেখ করেন, সরকার সর্বোচ্চ বুদ্ধি, বিবেক ও জ্ঞান প্রয়োগ করে এমন একটি বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করেছে, যাতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তত কিছুটা হলেও স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারে।
অতীতের চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান অগ্রগতি
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই সংসদের যাত্রা শুরু হওয়ার পর আমরা বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই অতিক্রম করেছি। বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, কোথাও ঐকমত্য হয়েছে, কোথাও মতভেদ হয়েছে। কিন্তু তারপরও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা দেশের মানুষের সামনে একটি আশার আলো তুলে ধরতে পেরেছি।’ তিনি ৫ আগস্টের ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ সার্বিক অবস্থা ‘অত্যন্ত শোচনীয়’ ছিল বলে মন্তব্য করেন। সেই পরিস্থিতি থেকে পর্যায়ক্রমে দেশকে গণতান্ত্রিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার সক্ষম হয়েছে।
গণতন্ত্র ও ঐক্যের গুরুত্ব
প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সবাই যদি সব বিষয়ে একমত হতেন, তাহলে তো একজনের বক্তব্যই যথেষ্ট হতো। কিন্তু গণতন্ত্রে আলোচনা, মতবিনিময় ও ভিন্নমতের প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আমরা জাতির সামনে আশার একটি পথ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি।’ তিনি সংসদের সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান, যারা দেশের মানুষের স্বার্থ নিয়ে সভ্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে শুল্ক প্রত্যাহার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত জনগণ, বিশেষ করে নারীরা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে চাই যে, এই শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে অতীতের মতো বাজেট ঘোষণার আগে বা পরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবার আমরা দেখিনি।’ তিনি মনে করেন, সরকার জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছে এবং কিছুটা স্বস্তি দিতে পেরেছে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দল হিসেবে একটি সুন্দর, স্বাভাবিক ও বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে যত ভালো বাজেটই হোক, সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়। বাস্তবতা অনেক কঠিন। দেশের মানুষ এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা শুনতে চায়, তাই অতীতের বিতর্কে তিনি যেতে চান না।



