সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ছাড়া বক্তৃতা ও উপস্থিতি কমে যাওয়ার প্রবণতা নতুন নয়। সম্প্রতি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল কুমিল্লা-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে বাজেট আলোচনায় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য ডাকলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, 'আমারে দেন ছয় মিনিট, আর অন্যদের দেন, দশ মিনিট, বারো মিনিট। এর প্রতিবাদে আমি বক্তৃতা দিলাম না, এটা একটা পয়েন্ট। আরেকটা পয়েন্ট হলো, এখানে আমার সিরিয়াল ছিল আট নম্বরে। যদি তারা আট নম্বর সিরিয়াল ঠিক রাখত, তাহলে আমার বক্তৃতাটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে হইত। এখান থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হইছে।' পরে তিনি বক্তৃতা দিলেও বলেন, 'বক্তব্য দিচ্ছি, তবে মন খারাপ।'
প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি ও সংসদীয় সংস্কৃতি
সেলিম ভূঁইয়ার এই 'মন খারাপ' প্রধানমন্ত্রীর সামনে বক্তৃতা দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে উদ্ভূত। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বক্তৃতা অর্থহীন। পরদিন ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজার সফরে গেলে সিলেটের সাতজন সংসদ সদস্য বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে যান। প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রশ্ন করেন, 'সংসদ নাই আজকে? এখানে কেন? সংসদে যান।' এরপর সিলেট-৬ আসনের এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী ও কয়ছর আহমেদ তাৎক্ষণিক ঢাকায় ফিরে সংসদে উপস্থিত হন।
মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি
২২ জুন বাজেট আলোচনার সময় মন্ত্রীদের অনেক আসন খালি ছিল। বিরোধী দলের এক সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, 'স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, অনেক মন্ত্রী নাই। মন্ত্রীদের চেয়ার সব খালি।' জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, 'বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি দেখতে চাই। শোকর করেন যে অর্থমন্ত্রী অন্তত আছেন এখানে।'
চিফ হুইপের স্বীকারোক্তি
গত ২৭ এপ্রিল সরকার দলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি সংসদে বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সংসদের প্রাণ অ্যাক্চুয়ালি। উনি থাকলে সবাই তার বক্তব্য শোনাতে চান। এই জন্য উনার অনুপস্থিতিতে আমি অনেক বক্তাই পাই না।'



