মির্জা আব্বাসের স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও সংসদে অনুপস্থিতি
ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় আকস্মিক অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারানোর পর তাকে প্রথমে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সংসদের অধিবেশন শুরু হলেও তিনি এখনো যোগদান করতে পারেননি।
সংবিধানের ৬৭ (খ) ধারা: কী বলছে?
সংবিধানের পঞ্চম ভাগে প্রথম পরিচ্ছেদের ৬৭ (খ) ধারায় বলা হয়েছে, 'স্পিকারের অনুমোদন ছাড়া পরপর ৯০ বৈঠক-দিবস অনুপস্থিত থাকলে আসন শূন্য বলে গণ্য করা হয়।' মির্জা আব্বাস কবে নাগাদ যোগদান করতে পারবেন বা বাইরে থেকে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডার
পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য জানতে চান। তিনি মির্জা আব্বাসের শপথ গ্রহণ এবং সংসদে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়েও জানতে চান।
স্পিকারের বক্তব্য
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে জানান, 'মির্জা আব্বাস আমাদেরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, তার অবস্থা ক্রমাগত ভালো হচ্ছে। যথাসময়ে সুস্থ হলে তিনি এখানে আসবেন।' তিনি আরও বলেন, 'কোনও সংসদ সদস্যের যদি সদস্য পদ চলে যায়, যথা সময়ে সংসদ থেকে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।'
সুস্থতার খবর
রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব রবিবার (২১ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে জানান, মির্জা আব্বাস আগের তুলনায় অনেক সুস্থ আছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, 'আমাদের শ্রদ্ধেয় বড় ভাই, ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস দেশবাসীর আন্তরিক দোয়া ও শুভ কামনায় আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ। তার সুস্থতা কামনায় যারা দোয়া করেছেন, তাদের সবার প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।' তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'ইনশাআল্লাহ, পূর্ণ সুস্থতা লাভ করে অচিরেই পুনরায় জনগণের মাঝে ফিরে এসে দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিজের দায়িত্ব ও কার্যক্রম যথারীতি অব্যাহত রাখবেন মির্জা আব্বাস।' প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেন।



