দিনাজপুরে আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফ মুনসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।
গ্রেফতার ও আটকের বিবরণ
সোমবার (৬ জুলাই) বিকালে দিনাজপুর শহরের গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ থেকে অপহৃত ব্যক্তিসহ তাদের আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মাদ নূরনবী। গ্রেফতারকৃত আরিফ মুন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। অন্যরা হলেন- হাসিন ইসরাক মিম (২২), আজমীর হোসেন ওরফে প্রেম (২২), সাজিদুল মিনহাজ (২৯) এবং মো. হৃদয় (২২)।
মামলার বিবরণ
রোববার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে দিনাজপুর সদর উপজেলার খোশালপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে মো. মামুন (৩৬) কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়, রোববার (৫ জুলাই) রাতে আব্দুস সামাদ পাঁচমাইল এলাকায় তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে ছিলেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই বাড়িতে আসামিরা প্রবেশ করে, তাকে মারপিট করে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায় এবং ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
উদ্ধার ও পুলিশের পদক্ষেপ
অভিযোগের সূত্র ধরে সোমবার বিকালে গোর-এ-শহীদ বড় মাঠ থেকে আব্দুস সামাদকে উদ্ধার এবং আরিফ মুনসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। থানায় নেওয়ার পর এনসিপির নেতাকর্মীরা তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। রাতে মামলা দায়েরের পর পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে ১০-১২ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়।
পটভূমি ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ
জেলার কয়েকজন এনসিপি নেতার বরাত দিয়ে জানা যায়, অপহৃত আব্দুস সামাদ জমি কেনাবেচার কাজ করেন। কিছুদিন আগে এনসিপি নেতা আজমির হোসেন প্রেমের এক আত্মীয় মজিবর রহমানকে জমির মালিকানা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাড়ে চার লাখ টাকা গ্রহণ করেন; কিন্তু পরবর্তীতে জমির মালিকানা বুঝিয়ে দিতে পারেননি। উল্টো জমির দখলে থাকা মালিক মজিবর রহমানসহ কয়েকজনের নামে মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি আজমির হোসেন দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করেন এবং রোববার রাতে তার অনুসারীদের নিয়ে আব্দুস সামাদকে ডেকে এনে সাড়ে চার লাখ টাকা পরিশোধের চাপ দেন। সোমবার বিকালে আব্দুস সামাদের ছেলে টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও পুলিশের কাছে অপহরণের অভিযোগ করেন।
আদালতে প্রেরণ
কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মাদ নুরনবী বলেন, সোমবার রাতে ভিকটিমের ছেলে বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। সেই মামলায় আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়ে মঙ্গলবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।



