কলম্বিয়ার ছোট্ট শহর বারাঙ্কাসের এক গ্রামে জন্ম লুইস দিয়াজের। অঞ্চলটি কলম্বিয়ার সবচেয়ে অনুন্নত জায়গার একটি, যেখানে লাতিন আমেরিকার বিরল আদিবাসী সম্প্রদায় ওয়াইয়ুদের বসবাস।
শৈশবের সংগ্রাম
এখানে তিনবেলা খাবার অনেকের কাছে বিলাসিতা। দিয়াজের পরিবারেও যেদিন আয় ভালো হতো, সেদিন দুই বেলা খেতে পেত। আর তাই শৈশব থেকেই অপুষ্টিতে ভুগতেন দিয়াজও।
দিয়াজের বাবা লুইস মানুয়েল দিয়াজ ছিলেন নির্মাণশ্রমিক। তবে ভালোবাসতেন ফুটবল। নিজে ভালো ফুটবলার হতে না পেরেও আশা ছাড়েননি। সন্তানের মধ্যে সেই স্বপ্নের বীজ বুনতে পেরেছিলেন। নিজ এলাকার শিশুদের জন্য একটি ফুটবল স্কুলও পরিচালনা করেন।
ফুটবল যাত্রা শুরু
বাবার সেই স্কুলেই লুইস দিয়াজের ফুটবল শেখার শুরু। তবে অপুষ্টিতে ভোগার কারণে কোচরা বলেছিলেন, লুইস দিয়াজ বড় ফুটবলার হতে পারবেন না। মা–বাবা তাতেও দমে যাননি।
লুইস দিয়াজের মা সিলেনিস মারুলান্দা নিজের শখের গয়না বিক্রি করে ছেলের জন্য বুট কিনে আনেন। ব্রাজিলের রোনালদিনহোর খেলা ভালোবাসতেন দিয়াজ। আর তাই রোনালদিনহোর মতো খেলতে চেষ্টা করতেন ছোটবেলা থেকেই।
ট্রায়াল ও ক্লাব ক্যারিয়ার
২০১৫ সালে একটি ক্লাবের উন্মুক্ত ট্রায়ালে অংশ নিতে ছয় ঘণ্টার পথ পাড়ি দেন লুইস দিয়াজ। সেখানে কয়েক হাজার কিশোর এসেছিল ট্রায়াল দিতে। এত জনের মধ্যেও নিজের প্রতিভা ঠিকমতো তুলে ধরতে পেরেছিলেন লুইস দিয়াজ। বাছাইয়ে সুযোগ পেতেই বদলে যেতে থাকে লুইস দিয়াজের খেলা থেকে শরীর।
অপুষ্ট চেহারার বদলে খেলোয়াড়সুলভ পেশি গঠন থেকে নিখুঁত খেলা রপ্ত করতে থাকেন। বারাঙ্কিয়া এফসির যুবদলে লুইস যখন ডাক পান, তখন তাঁর বয়স ১৭ বছর। এই ক্লাবে পুরো দলের জন্য রান্নার কাজ করতেন লুইসের মা সিলেনিস মারুলান্দা।
ইউরোপে সাফল্য
এভাবেই একসময় লুইস জায়গা করে নেন আতলেতিকো মাদ্রিদের মূল দলে। ইউরোপে নিজের ঝলক দেখিয়ে লুইস ২০২২ সালে যোগ দেন লিভারপুলে, সেখান থেকে ২০২৩ সালে আসেন বায়ার্ন মিউনিখে।
২০২৫ সালে দীর্ঘদিনের বান্ধবী জেরালডিন পন্সকে বিয়ে করেন লুইস। তিন সন্তানের বাবা এই ফুটবলার। আগের দুই মেয়ের পর গত মে মাসে তিনি ছেলে সন্তানের বাবা হন।
ফাউন্ডেশন ও অনুপ্রেরণা
নিজের খেলা দিয়ে সারা বিশ্বে পরিচিতি পাওয়া এই কলম্বিয়ান এখনো নিজের জন্মভূমিতে ফেরেন নিয়মিত। হঠাৎ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে এলাকার শিশু–কিশোদের সঙ্গে ফুটবল খেলে অনুপ্রেরণাও দেন। তাঁর গড়া লুইস দিয়াজ ফাউন্ডেশন অসহায় শিশুদের সাহায্য করে।
সূত্র: মার্কা, ফিফা ও ডেইলি সাবাহ



