১৭ বছর পর বাংলাদেশ সত্যিকারের কার্যকর সংসদ পেয়েছে: স্পিকার
১৭ বছর পর কার্যকর সংসদ পেয়েছে বাংলাদেশ: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বাংলাদেশ একটি সত্যিকারের কার্যকর সংসদ পেয়েছে। বিগত বছরগুলোয় দেশের মানুষ এ ধরনের একটি সংসদের অপেক্ষায় ছিল বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এবারের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এবং এই সংসদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বাড়বে।

ফল উৎসবে স্পিকারের বক্তব্য

বুধবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদের সাংবাদিক লাউঞ্জে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত ‘ফল উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার বলেন, গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা ও প্রচারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ আরও বেশি মহিমান্বিত হবে এবং এটি জনগণের প্রকৃত আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে।

সাবেক সংসদের সমালোচনা

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিগত বছরগুলোর সংসদীয় ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। এমনকি সাবেক সামরিক শাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলের সংসদ সদস্য থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি নিজের ক্ষোভ ও সংকোচ প্রকাশ করেন। স্পিকার বলেন, ‘আমি বেশ কয়েকটি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। বিশেষ করে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলের সংসদের সদস্য ছিলাম, তা বলতেই লজ্জা পাই। অনেক সময় টেলিভিশনে দেখেছি বা রেডিওতে শুনেছি—একটি এলাকা থেকে একজন নির্বাচিত হয়েছেন, কিন্তু দুই দিন পরে দেখি, অন্য লোক সংসদে এসে বসে আছেন। ফাঁকতালে বহু লোক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গিয়েছিলেন।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নতুন সংসদের বৈশিষ্ট্য

হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও যোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে এমন ‘আবোল-তাবোল’ সংসদ চলার পর এবার একটি সত্যিকারের কার্যকর সংসদ গঠিত হয়েছে। এই সংসদকে ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদের মতো একটি শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ হিসেবে তুলনা করেন তিনি। স্পিকার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে এমন অনেক প্রার্থী বিজয়ী হয়ে এসেছেন, যাদের আগে বড় কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি ছিল না, কিন্তু তারা নিজস্ব যোগ্যতায় জয়ী হয়েছেন। ভোটারদের মানসিকতার বিশ্লেষণ করতে গিয়ে হাফিজ উদ্দিন বলেন, এবারের ভোটিং প্যাটার্ন বা ভোট দেওয়ার ধরন দেখে পরিষ্কার বোঝা গেছে যে—সাধারণ মানুষ একটি বড় পরিবর্তন দেখতে চায়। অতীতে সংসদ সদস্যরা যেসব কর্মকাণ্ড করেছেন, মানুষ তাতে সন্তুষ্ট ছিল না। মানুষ একটি কার্যকর ও প্রকৃত সংসদ চেয়েছিল।

নতুন সাংসদদের প্রতি দায়িত্ব

নতুন সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্পিকার বলেন, ‘যেহেতু মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, তাই আমাদের জনগণের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে হবে। আমাদের দায়িত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি।’

ডেপুটি স্পিকারের বক্তব্য

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশের গণতন্ত্রকে প্রকৃত অর্থে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, দেশের সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে সংসদকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে সাংবাদিকদের শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন সংসদ সদস্য ও সাংবাদিকদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মেলবন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে।

চিফ হুইপের বক্তব্য

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি তার বক্তব্যে বলেন, সংসদকে জনগণের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে সাংবাদিকদের যেকোনো ইতিবাচক ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগে সংসদ সচিবালয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্যান্যরা

বিপিজেএর সভাপতি হারুন জামিলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথোর সঞ্চালনায় এই ফল উৎসবে রাজনৈতিক অঙ্গন এবং গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। ফল উৎসবে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, আখতারুজ্জামান মিয়া, এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বিএনপির সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জামায়াতের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, সালাহ উদ্দিন, জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, এম আব্দুল্লাহ, মোস্তফা কামাল মজুমদার, বাছির জামাল, আশিষ সৈকত, জাহেদ চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম কাগজী, আলফাজ আনাম, সুলতান মাহমুদ, ইলিয়াস হোসেন, কামরান রেজা চৌধুরী, রিয়াজ আহমেদ, নাফিজা দৌলা, নিখিল ভদ্র প্রমুখ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিপিজেএর সভাপতি হারুন জামিল। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান লিথো। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহসভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ভূঁইয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল ইসলাম (তানিম আহমেদ), কার্যনির্বাহী সদস‌্য মশিউর রহমান, মনিরুল ইসলাম।