রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক নাগরিক সমাবেশে বক্তব্য দেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অঙ্গীকার করেছিলেন “আই হ্যাভ আ প্ল্যান”। এবারের বাজেটে সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন আমি দেখতে পাইনি। একই রকম উচ্চাভিলাষী বাজেট, একই রকম অগ্রাধিকার, একই রকম ব্যয়ের খাত এবং উচ্চাভিলাষী কর আদায়ের অবাস্তব প্রাক্কলন অতীতের মতো এবারও দেখা যাচ্ছে।’
বাজেটের ধারাবাহিকতা নিয়ে সমালোচনা
আজ শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, ‘যে-ই সরকারে থাকুক, যিনিই অর্থমন্ত্রী হোন, বাজেটে কতগুলো সুস্পষ্ট প্রবণতা দেখা যায়। একটা হলো, বাজেট প্রতিবছর হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে; আমাদের সংগতি আছে কি নেই, সেটা বিবেচনা না করেই এটা হচ্ছে। এবারও তা-ই ঘটেছে। দ্বিতীয়ত, প্রতিবারের মতো এবারও বাজেটে অর্থায়নের উৎস হিসেবে অবাস্তব ও অবান্তর করের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এনবিআরের যে ইতিহাস, তাতে এ ক্ষেত্রে আশাবাদী হওয়া অসম্ভব। ফলে বাজেটের ঘাটতি আরও বাড়বে এবং অত্যন্ত দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারী ঘাটতি সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া অতীতের মতো এবারও ছকবাঁধা বাজেট হয়েছে। বিপুল ঋণসহ বিভিন্ন দায়ের কারণে ছকে আটকা পড়তে হচ্ছে।’
স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ
এবারের বাজেটেও কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করে সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘বিশেষ করে, সরকারের আপনজন বা অলিগার্কদের খুশি করার জন্য বরাদ্দ রাখা চলছেই।’ তবে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘প্ল্যানের’ প্রতিফলন দেখার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সংগঠনগুলোর বাজেট সংশোধনী প্রস্তাব
সমাবেশের আয়োজক তিন সংগঠনের পক্ষে বাজেট সংশোধনী ও অর্থনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবনা তুলে ধরেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক বৃত্তে বন্দী। এ বাজেট গণ-আকাঙ্ক্ষা পূরণে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নিবন্ধন প্রতিবাদ
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম নাগরিক সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না দেওয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া রুখে দেওয়ার ষড়যন্ত্রেই আদালতের রায় অমান্য করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনকে নিবন্ধন দেওয়া হয়নি। সংস্কার হলে কৃষিপণ্যের দাম নির্ধারণে কৃষকের ভূমিকা মুখ্য থাকবে, নাগরিকের করের টাকা খরচ করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন বানানোর সুযোগ কমে যাবে।
অন্যান্য বক্তারা
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ, জাস্টিস ও ডেভেলপমেন্ট পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমেদ, নেটওয়ার্ক ফর পিপল’স অ্যাকশনের (এনপিএ) সংগঠক কৌশিক আহমেদ, অহিংস গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নজরুল হক, ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য দেন।



