সংসদে তথ্যমন্ত্রী: দশম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে
দশম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শিগগিরই শুরু

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সংসদে ঘোষণা দিয়েছেন যে, শিগগিরই দশম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু করা হবে। রোববার জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয় এই বিষয়টি।

নবম মজুরি বোর্ড বাস্তবায়নে আইনি জটিলতা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড রোয়েদাদ বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সাংবাদিক ও সংবাদপত্র মালিকপক্ষের আয়কর প্রদান নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় এটি কার্যকর হয়নি। বর্তমানে নবম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড বাস্তবায়ন–সংক্রান্ত বিষয়ে ছয়টি রিট বা সিভিল পিটিশন চলমান আছে। মামলাগুলোর সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, শিগগিরই দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন ও সুরক্ষা উদ্যোগ

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আবদুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিতকরণ ও ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ অনলাইন ডেটাবেইজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষা, সক্ষমতা, সহায়তা, মর্যাদা ও নিরাপদ পেশাগত পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে সাংবাদিক সুরক্ষা সহায়তা সেল, হুমকি, হামলা ও ডিজিটাল হয়রানির ঘটনায় আইনি ও প্রযুক্তিগত রেফারেল, নারী সাংবাদিকদের জন্য বিশেষ সহায়তা, ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, জরুরি কল্যাণ সহায়তা, জেলা পর্যায়ের সাংবাদিক সুরক্ষা উদ্যোগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তুলতে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রেস কাউন্সিল আইন সংশোধন ও কল্যাণ ট্রাস্ট

সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ আলী আসগারের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার জন্য আইনটি সংশোধন করার কার্যক্রম চলমান আছে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে পেশাগত কাজ করতে অক্ষম বা অসমর্থ, শারীরিক বা মানসিকভাবে অসুস্থ ও চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে অসমর্থ সাংবাদিকদের এবং সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান আছে। ২০১৫-২০২৬ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১১০ জন অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের মধ্যে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাস্টের অন্যান্য সহায়তামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। ৪০২ জন সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের ৭৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের রমজান মাসে দুই হাজার জন সাংবাদিক পরিবারের মধ্যে ১ কোটি ১২ লাখ ৩৪ হাজার টাকার ইফতার ও ঈদ উপহার দেওয়া হয়েছে।

টিভি চ্যানেলের অনুমোদন পরিস্থিতি

সরকারি দলের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে সরকারি মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল চারটি। ৫৫টি বেসরকারি টিভি চ্যানেল অনুমোদন পেলেও পূর্ণ সম্প্রচারে থাকা বেসরকারি টিভি চ্যানেল ৩৭টি। নতুন কোনো টিভি চ্যানেল অনুমোদনের অপেক্ষাধীন নেই। ভবিষ্যতে নতুন কোনো টিভি চ্যানেল অনুমোদনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিল্পমন্ত্রীর ইউরিয়া সার সংক্রান্ত বিবৃতি

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে বিশ্বে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সব ইউরিয়া সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে কেবল ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি উৎপাদনে আছে। ফলে উৎপাদন ঘাটতি মোকাবিলায় জিটুজি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান সাবিক থেকে অতিরিক্ত ২ লাখ মেট্রিক টন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে অতিরিক্ত ১ লাখ মেট্রিক টন এবং আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতির মাধ্যমে ৪ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে পয়লা মে থেকে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে সার কারখানাটি চালু করা সম্ভব হবে। জিটুজি পদ্ধতিতে বা টেন্ডারের মাধ্যমে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত জ্বালানি ও কাঁচামাল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া টিএসপি সার কারখানা ও ডিএপি সার কারখানার উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল যথা রক ফসফেট, ফসফরিক অ্যাসিড ও সালফারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে টেন্ডারের পাশাপাশি উৎপাদনকারী দেশ যথা মরক্কো, জর্ডান, ওমান, ইউএই, চীন ও মালয়েশিয়া থেকে জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।