স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ: ২০ বছর প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ পায়নি বাংলাদেশের মানুষ
স্পিকার: ২০ বছর প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ পায়নি মানুষ

ভোলায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বক্তব্য: গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও সুশাসনের প্রত্যাশা

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশের মানুষ প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে এবং দেশের জনগণ আবারও গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে ভোলা সার্কিট হাউস মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ভোলার সঙ্গে দীর্ঘ ৪০ বছরের সম্পর্ক ও আবেগ

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভোলায় আসার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে জানান। তাঁর জন্মস্থান লালমোহন থানা এবং তাঁর পিতা এখান থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ভোলার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ৪০ বছরের সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি লালমোহন ও তজুমদ্দিন উপজেলার জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এবার স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি গণতন্ত্রের বিজয় প্রত্যক্ষ করছেন বলে মন্তব্য করেন।

গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই

স্পিকার বলেন, বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত গণতন্ত্রমনা ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং তারা কোনো স্বৈরশাসন মেনে নেয় না। গুম, খুন, নির্যাতনসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে জনগণ রাজপথে নেমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ–আন্দোলন বিশ্বব্যাপী দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানবাধিকার ও উন্নয়নের সংগ্রাম

ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে অনেক সময় পরাশক্তিগুলো ছোট করে দেখতে চায়। তবে গণতন্ত্রের জন্য দেশের মানুষের সংগ্রাম গৌরবের বিষয়। মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্বজুড়েই ঘটে, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের গুম, খুন ও নির্যাতনের সময় পেরিয়ে দেশ এখন মুক্ত পরিবেশে রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সুখ-সমৃদ্ধি ও সুশাসনের প্রত্যাশা

স্পিকার আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার দেশের মানুষের জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত এবং দলমতনির্বিশেষে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, এটাই তাঁর প্রত্যাশা। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি জোর দেন।

সংসদকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা

হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, সংসদকে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে তিনি সচেষ্ট থাকবেন। সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে এবং মানবাধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, এটাই তাঁর প্রত্যাশা। স্পিকার হিসেবে তিনি নিরপেক্ষ থেকে সব দলের প্রতি সমান গুরুত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন প্রসঙ্গে মন্তব্য

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ বিবেচনা করেই তাঁকে জামিন দিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানের বিবরণ ও উপস্থিতি

এর আগে স্পিকার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সড়কপথে বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওসার, জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রাইসুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম খানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা।