অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ: বিরোধী দলের রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির অভিযোগ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অনেকগুলো হুবহু সংসদে পাস হয়েছে। তবে, কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন যে বিরোধী দল এই অধ্যাদেশগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য
রবিবার (১২ এপ্রিল) বিকালে সচিবালয়ের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের তড়িঘড়ি করে জারি করা কয়েকটি অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা করছে।”
তিনি উল্লেখ করেন যে গুম, মানবাধিকার ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধনের মাধ্যমে আরও গ্রহণযোগ্য আইন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “জারি করা অধ্যাদেশগুলোর সবকিছু যে নিখুঁত ছিল, তা নয়। আমি নিজেও গুমের শিকার। তাই গুম নিয়ে একটি শক্ত ও কার্যকর আইন প্রণয়ন করা হবে।”
ওয়াকআউট ও বিরোধী দলের ভূমিকা
ওয়াকআউট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল সংসদ থেকে কয়েক দফা ওয়াকআউট করেছে, যা সংসদীয় বিধি অনুযায়ী তাদের অধিকার। তবে, তিনি দাবি করেন যে যেসব ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা ওয়াকআউট করেছে, সেগুলো বাস্তবসম্মত ছিল না। তিনি বলেন, “সংসদের বাইরে বিরোধী দল ভুল তথ্য উপস্থাপন করছে। বিরোধী দল যেসব অধ্যাদেশ নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিল, সেগুলোই পরবর্তীতে প্রায় হুবহু আকারে সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।”
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর ও গণভোট অধ্যাদেশ
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী খসড়ায় কিউরেটর স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে দীর্ঘসময় দায়িত্বে থাকার বিধান ছিল। সরকার বিষয়টি সংশোধন করেছে এবং ভবিষ্যতে সবার মতামতের ভিত্তিতে নতুন বিল আনা হতে পারে।
গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ওই অধ্যাদেশ অনুযায়ী গণভোট আয়োজন করেছে। তবে, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের আলোকে গণভোট হয়নি বলে বিতর্ক রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির জারি করা কিছু আদেশ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, এ বিষয়টি নিয়ে আদালতে রিটও হয়েছে।
তিনি বলেন, “গণভোট সম্পন্ন হয়েছে এবং এর বৈধতা রয়েছে। আপাতত নতুন আইনের প্রয়োজন নেই। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আবার গণভোট আয়োজন করা হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর পরিণতি এবং বিরোধী দলের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।



