খুলনার খালিশপুরে তাঁতী দল নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ড
খুলনা জেলার খালিশপুর থানার নয়াবাটি এলাকায় এক বীভৎস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাঁতী দলের স্থানীয় নেতা সোনা মিয়াকে (৩৮) তাঁর নিজের দোকানে ঢুকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সংঘটিত এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হামলার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় পুলিশ ও সূত্রমতে, গতকাল রাতে সোনা মিয়া তাঁর মুদি দোকানে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা সরাসরি সোনা মিয়াকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁর ডান হাতের বাহুতে অন্তত দুটি গভীর আঘাত করে।
জীবন বাঁচাতে সোনা মিয়া দোকান থেকে বের হয়ে দৌড়ে পাশের একটি গুদামে আশ্রয় নেন। কিন্তু সেখানে কিছুক্ষণ পরই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয় লোকজন সোনা মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসকদের মৃত ঘোষণা
হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সোনা মিয়াকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও তাঁকে মৃত ঘোষণা করতে বাধ্য হন। খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর আতাহার আলী জানিয়েছেন, নিহতের ডান হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
নিহত সোনা মিয়ার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তিনি খালিশপুর থানার ১০ নম্বর ওয়ার্ড তাঁতী দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মুদি ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হাই (কালু) এই হত্যাকাণ্ডের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁতী দলের এই নেতার অকাল মৃত্যু এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।



