আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ আইন পাস: সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ সংসদে গৃহীত
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ আইন পাস, সংসদে বিল অনুমোদন

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ আইন সংসদে পাস: সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ গৃহীত

জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল-২০২৬ পাস হয়েছে, যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার বিধান বহাল রয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মত কণ্ঠভোটে অনুমোদন লাভ করে। এই সংশোধনী বিলটি ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল, যা এখন আইনে পরিণত হয়েছে।

বিল পাসের প্রক্রিয়া ও বিরোধী দলের প্রতিক্রিয়া

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে দিনের সম্পূরক কার্যসূচির অংশ হিসেবে বিলটি উত্থাপনের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফ্লোর দেওয়া হয়। প্রথমে বিলটি তোলার পর স্পিকারের আহ্বানে পুনরায় বিবেচনার জন্য তোলা হয়, কিন্তু দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী না থাকায় আলোচনা হয়নি। তবে বিল পাসের প্রস্তাব উত্থাপনের সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর চান এবং তিনি বলেন, 'এ-সংক্রান্ত একটি তুলনামূলক শিট আমরা ৩-৪ মিনিট আগে হাতে পেয়েছি। এটা পুরো পড়তে পারিনি। আইনটি অবশ্যই একটি স্পর্শকাতর আইন। আমরা কি আইনটি পাসের জন্য একটু সময় চাইতে পারি?'

স্পিকার জবাবে বলেন, 'আপত্তি জানানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। সেই সময় আপত্তি হলে আমরা গ্রাহ্য করতে পারতাম। বিলের এই পর্যায়ে এসে আর আপত্তির সুযোগ নেই।' বিরোধী দলের নেতা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, 'দুঃখজনকভাবে শিটটা তো পেয়েছি এইমাত্র।' স্পিকার পুনরায় উল্লেখ করেন, 'যা হোক, এ বিষয়টি হয়তো পরে আমরা দেখব, বিলের এই পর্যায়ে আপত্তির কোনো সুযোগ নেই।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও আইনের পটভূমি

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং তিনি বলেন, 'বিলটি একটি গণহত্যাকারী সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধকরণ-সংক্রান্ত একটি সংশোধনী। আগের যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ছিল, তা সংশোধনের জন্য।' তিনি আরও যোগ করেন, 'বিরোধীদলীয় নেতার নিশ্চয় স্মরণ থাকার কথা—উনারা এবং এনসিপির বন্ধুরা সবাই মিলে একটি আন্দোলন করেছিলেন। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মোটামুটি বাংলাদেশে একটা জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। একর্ডিংলি নির্বাচন কমিশনের তাদের নিবন্ধনটাও স্থগিত হয়ে আছে।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, এই আইনের অনুবলে পরবর্তীতে আইসিটি অ্যাক্টকেও পরিবর্তন এনে সংগঠনের বিচারে বিধান যুক্ত করে সংশোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'সংশোধনের সেকেন্ড রিডিং স্টেজে যদি আপনারা সংশোধনী দিতেন, ফাস্ট রিডিং উত্থাপনের পরে যদি আপনারা আপত্তি তুলতেন, তাহলে আলোচনার সুযোগ থাকত।' স্পিকার তার রুলিং দিয়ে বলেন, 'এই বিষয়ে আমি আমার রুলিং দিয়েছি। আপনি পাস করার প্রস্তাব করতে পারেন।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেষে বলেন, 'আমি জাতিকে পরিষ্কার করার জন্য এই কথাগুলো বলেছি। জাতি পরিষ্কার আছে। আমরাই ময়লা করি। যাক মাননীয় স্পিকার, আপনাকে ধন্যবাদ, মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা মেনে নিয়েছেন।' পরে তার প্রস্তাব অনুযায়ী বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

ইতিহাস ও প্রাসঙ্গিক তথ্য

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে অধ্যাদেশের মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। এই সংশোধনী বিলটি সেই অধ্যাদেশকে আইনি কাঠামো দিয়েছে, যা এখন সংসদে পাস হয়ে কার্যকর হয়েছে। আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা কার্যক্রম চালালে শাস্তির বিধান যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা শোনা গেলেও, পাস হওয়া বিলে তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জারি করা অধ্যাদেশ হুবহু সংসদে পাস হয়েছে।