জাতীয় সংসদে পাস হলো জাতির পিতার পরিবারের নিরাপত্তা আইন বাতিলের বিল
বুধবার জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে পাস হয়েছে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আইন বাতিলের বিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশ দিনে সংসদ সদস্যদের সম্মতিতে এই বিলটি অনুমোদন লাভ করে। গৃহমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদে এই বিলটি উত্থাপন করেন, যা আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের একটি অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করা হয়েছিল।
আইনের পটভূমি ও বাতিলের কারণ
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ৬৩ নং আইন)” ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে, প্রয়োজনীয়তার প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৫ মে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ ও সুবিধা প্রদানের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
বিবৃতিতে আরও যোগ করা হয়েছে যে, এই আইনটি একটি মাত্র পরিবারের সদস্যদের বিশেষ রাষ্ট্রীয় সুবিধা প্রদানের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা স্পষ্ট বৈষম্য হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলস্বরূপ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদে “জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা আইন, ২০০৯” বাতিল করার একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
অধ্যাদেশ থেকে বিলে রূপান্তর
রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর “জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা (বাতিল) অধ্যাদেশ, ২০২৪” জারি করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে, অধ্যাদেশটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে অনুমোদনের জন্য একটি বিল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিলটি এখন আইনে পরিণত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী বৈষম্যমূলক বিধানটি সরিয়ে দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তটি রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আইনটি বাতিল হওয়ার মাধ্যমে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের জন্য পূর্বে বিদ্যমান বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো আর কার্যকর থাকবে না, যা সামগ্রিকভাবে আইনের শাসন ও সমতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।



