সংসদে পাস হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও জবাবদিহিতা) বিল, ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিল পাস, আন্দোলনকারীদের দেওয়া হলো অনাক্রম্যতা

সংসদে পাস হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও জবাবদিহিতা) বিল, ২০২৬

বুধবার সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও জবাবদিহিতা) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে, যা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য আইনি অনাক্রম্যতা প্রদান করে। এই বিলটি ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুমোদন লাভ করে।

বিলের পটভূমি ও আইনি প্রক্রিয়া

বিলটি আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কর্তৃক অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করা হয়েছিল এবং পরে গৃহমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদে এটি উত্থাপন করেন। এটি আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা রাজনৈতিক আন্দোলনে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

বিলের মূল ধারাসমূহ ও বিধান

বিলের ৪ নং ধারা অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের সাথে সম্পর্কিত সকল দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও, এই আন্দোলন সংক্রান্ত কোনো নতুন দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগ দায়ের করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তবে, এই ধারায় একটি ব্যতিক্রমী বিধান রয়েছে: আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যার অভিযোগ একটি কমিশনের নিকট জমা দেওয়া যাবে, যা সংশ্লিষ্ট তদন্তের ব্যবস্থা করবে। একটি শর্তসাপেক্ষ ধারা উল্লেখ করে যে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, যদি কোনো শিকার কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীর সাথে যুক্ত থাকে, তবে কমিশন সেই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা পূর্বে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে তদন্তের দায়িত্ব দেবে না।

তদন্ত প্রক্রিয়া ও আইনি ফলাফল

বিলের ব্যাখ্যা অনুসারে, কমিশন যদি নির্ধারণ করে যে কোনো অভিযোগিত কাজ অরাজক পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার গঠন করেছে, তবে এটি যোগ্য আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেবে। আদালত এই প্রতিবেদনকে পুলিশি প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করে আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অন্যদিকে, কমিশন যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে কাজটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, তবে এটি সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে। এমন ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট কাজের সাথে সম্পর্কিত কোনো মামলা বা আইনি কার্যক্রম কোনো আদালতে শুরু করা যাবে না।

তদন্তের সময় কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার বা আটক করার আগে যুক্তিসঙ্গত ভিত্তিতে কমিশনের পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।