ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন ১২ মে
আগামী ১২ মে, মঙ্গলবার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই লক্ষ্যে আজ, বুধবার (৮ এপ্রিল), নির্বাচন কমিশন (ইসি) আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই তফসিলের বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন।
তফসিলের মূল সময়সূচি
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, গত ৬ এপ্রিল কমিশনের সভায় এই নির্বাচন সংক্রান্ত আলোচনা হয়েছে এবং সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভবনে দাখিল করতে হবে। রিটার্নিং অফিসার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের কাজ ২২ ও ২৩ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের ভবনে করবেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি কেউ আপিল করার ইচ্ছা রাখেন, তবে তিনি ২৬ এপ্রিল আপিল আবেদন করতে পারবেন। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ হবে ৩০ এপ্রিল। সবশেষে, ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
নির্বাচন পরিচালনা ও আসন বণ্টন
নির্বাচন পরিচালনায় রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মইনুদ্দিন খান এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে থাকবেন মনির হোসেন। এছাড়া চারজন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন প্রসঙ্গে ইসি সচিব জানান, বিএনপি ও তাদের জোটের জন্য ৩৬টি আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট পাবে ১৩টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে একটি আসন। সব মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা ৫০।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন; তারা কোনও জোটে নেই।
শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচন পরিস্থিতি
এ সময় শেরপুর ও বগুড়ার নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, “আগামীকাল আমাদের শেরপুর-৩ এবং বগুড়া-৬ আসনে নির্বাচন হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে প্রাপ্ত সংবাদ অনুযায়ী সব ঠিক আছে। আশা করি, আমরা যে বেঞ্চমার্কটা জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে আপনাদের সহযোগিতায় পেয়েছি, সেটা থেকে বেশি হবে।”
এই নির্বাচনটি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা মহিলা প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশন সকল প্রার্থী ও দলকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে এবং নির্বাচনটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।



