১৭ মাস পর আটক: সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর গতিবিধি নিয়ে রহস্য
বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা শিরীন শারমিন চৌধুরী রাজনৈতিক অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু গত ১৭ মাস ধরে তার প্রকাশ্যে উপস্থিতি না থাকায় নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। এই দীর্ঘ সময় তিনি কোথায় ছিলেন? কী করছিলেন? এবং তিনি কী নিজে থেকে আড়ালে ছিলেন? এসব প্রশ্ন এখনও অনেকের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
সক্রিয় থেকে অন্তর্ধান: একটি রাজনৈতিক রহস্য
জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে শিরীন শারমিন চৌধুরী সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে নিয়মিতই উপস্থিত ছিলেন। সংসদের অধিবেশন পরিচালনা থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ—সব ক্ষেত্রেই তার সক্রিয় ভূমিকা দৃশ্যমান ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে প্রকাশ্যে আর দেখা যায়নি। এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার অবস্থান নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করে।
গতিবিধি নিয়ে অস্পষ্টতা: কর্মকর্তাদের বক্তব্য
স্পিকারের দেখভালের দায়িত্বে থাকা তৎকালীন সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে সংসদ ভবন এলাকার সরকারি বাসভবন থেকে বের হন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি সপরিবারে একটি সাধারণ প্রাইভেট কারে করে তড়িঘড়ি বের হন। এ সময় স্পিকারের জন্য বরাদ্দ গাড়ি ও সংসদ সচিবালয়ের পরিবহন পুল থেকে পাঠানো গাড়িও ব্যবহার করেননি। তবে সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে তিনি কোথায় গেছেন তা বলতে পারেননি তারা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও রহস্য
একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেও স্পিকারের অবস্থান সম্পর্কে এতোদিন কিছুই জানা যায়নি। তাই প্রশ্ন উঠেছিল, তিনি কি দেশে নাকি বিদেশে চলে গেছেন। এই অনিশ্চয়তা তার গতিবিধি নিয়ে আরও রহস্য বাড়িয়ে তোলে।
আটক: একটি নতুন মোড়
এদিকে, আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। আটক হওয়া বাসা তার নিজের বলা হলেও স্বজনদের দাবি এটি তার আত্মীয়ের বাসা। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কী তিনি এতোদিন এখানেই ছিলেন? এই আটক তার দীর্ঘদিনের অন্তর্ধানের রহস্য কিছুটা উন্মোচন করতে পারে।
রাজনৈতিক পটভূমি ও পদত্যাগ
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার হন আবদুল হামিদ। ২০১৩ সালে তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এর পর টানা এ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ২৭ দিনের মাথায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন। সে পদত্যাপত্র কোথা থেকে এসেছে সেটি নিয়েও সে সময় প্রশ্ন উঠেছিল।
মামলা ও বর্তমান অবস্থা
উল্লেখ্য, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন (৩৮) নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়। এই মামলা তার রাজনৈতিক জীবনকে আরও জটিল করে তোলে। এখন তার আটক ও হেফাজত অবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।



