সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ডিবি আটক করেছে, রংপুর হত্যা মামলায় জড়িত
সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ডিবি আটক করেছে

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ডিবি আটক করেছে: রংপুর হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ নিজ বাসভবন থেকে তাকে আটক করা হয়। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সকালে এই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সাবেক এই স্পিকারকে বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

আটকের কারণ ও মামলার বিস্তারিত

তবে ঠিক কোন মামলায় বা কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে ডিবির পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি আমলি আদালতে নিহত শ্রমিকের স্ত্রী দিলরুবা আক্তারের করা সেই মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরী ছাড়াও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, একই মামলায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিরীন শারমিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন ও পদত্যাগ

রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ এক দশক স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেছিলেন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি প্রথমবার স্পিকার নির্বাচিত হন এবং এরপর থেকে টানা তিন মেয়াদে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে আসীন ছিলেন। তিনি মূলত রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

৫ আগস্টের পর থেকে তিনি অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন এবং তার বিদেশ যাত্রা নিয়েও নানা সময়ে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিবির এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সাবেক সরকারের এই শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিত্বকে আটক করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রতিক্রিয়া

ডিবি কার্যালয়ে তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হতে পারে। শিরীন শারমিন চৌধুরীর আটক হওয়ার খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কৌতূহল বাড়িয়েছে।