সংসদে অধ্যাদেশ বিল পাসের তোড়জোড়, বিরোধী দলের আপত্তি সত্ত্বেও চলছে প্রক্রিয়া
অধ্যাদেশ বিল পাসে তোড়জোড়, বিরোধী দলের আপত্তি

সংসদে অধ্যাদেশ বিল পাসের তোড়জোড় শুরু

সংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টি অধ্যাদেশ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) একক দিনেই সাতটি বিল পাসের মাধ্যমে এই অগ্রগতি লক্ষণীয়।

বিরোধী দলের আপত্তি ও আলোচনা স্থগিত

একই দিনে আরও তিনটি বিল উত্থাপিত হলেও, বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তির মুখে সেগুলো পরবর্তী কার্যদিবসে আলোচনা শেষে পাসের জন্য রাখা হয়েছে। এর আগে রবিবারও দুটি বিল সফলভাবে পাস হয়েছে। সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা সময়ের এক চাপা সংকট তৈরি করেছে।

এই সময় স্বল্পতার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার থেকে দিনে দুই বেলা অধিবেশন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টা এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবারের ‘বেসরকারি সদস্য দিবস’ বাতিল করে বিল পাসের জন্য ‘সরকারি দিবস’ হিসেবে ব্যবহার করা হবে, এবং প্রয়োজনে শুক্রবার বিকেলেও অধিবেশন চলতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিলের কপি না পাওয়ায় বিরোধী দলের ক্ষোভ

কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, বিল উত্থাপনের তিন দিন আগে বিলের মূল কপি হাতে না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের সদস্যরা। সোমবার রাতে বিল পাসের সময় এই বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনও ফ্লোর নিয়ে কথা বলে বলেন, “বিধিতে আছে বিলের প্রতিলিপি অন্তত তিন দিন আগে সদস্যদের হাতে পৌঁছাতে হবে। কিন্তু, আমাদের ৪৯ পৃষ্ঠার একটি বিশাল দলিল এইমাত্র দেওয়া হলো। আমরা নতুন এমপি, আমাদের শেখার সময় দিতে হবে। এভাবে হুট করে বিল দিলে আমরা আলোচনা করবো কীভাবে? আমরা অধিকার বঞ্চিত হচ্ছি।”

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্পিকারের বিশেষ ক্ষমতা ও চিফ হুইপের ব্যাখ্যা

বিরোধী দলের আপত্তির জবাবে স্পিকার তার বিশেষ ক্ষমতা বলে বিল উত্থাপনের অনুমতি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “বিধিতে তিন দিনের কথা বলা থাকলেও স্পিকারের একটি বিশেষ ক্ষমতা আছে। জরুরি প্রয়োজনে তিনি সেই সময়সীমা মওকুফ করতে পারেন। সেই ক্ষমতা বলেই বিলটি এখানে আনা হয়েছে।”

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, “আমাদের সামনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ রয়েছে। সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এগুলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইনে রূপান্তর না করলে ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে। এতে দেশ বড় ধরনের বিড়ম্বনায় পড়বে। আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে এই সবগুলো বিল পাস করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিটি বিলের ৯০০টি করে কপি তৈরি করতে বিজিবি প্রেস ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে, এবং সময়ের অভাবে বিলের কপি আগেভাগে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বলে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেন।

বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে চিফ হুইপ বলেন, “আমরা ১৭ বছর জেল-জুলুমের শিকার হয়ে এই সংসদ গঠন করেছি। আমরা চাই গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে। আমাদের এই সীমাবদ্ধতা আপনারা আশা করি উপলব্ধি করবেন।”

অধ্যাদেশ বিল পাসের পরিসংখ্যান

  • মোট অধ্যাদেশ: ১৩৩টি
  • বিল আকারে উত্থাপনের জন্য নির্ধারিত: ৯৮টি
  • ইতোমধ্যে পাস হওয়া বিল: ৯টি
  • সোমবার উত্থাপিত বিল: ১০টি
  • সোমবার পাস হওয়া বিল: ৭টি
  • আলোচনার জন্য রাখা বিল: ৩টি

এই প্রক্রিয়ায় ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা সংশোধন’ আইনের বিল যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রমে এই তড়িঘড়ি প্রক্রিয়া দেশের আইনি কাঠামোকে সংহত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও বিরোধী দলের আপত্তি গণতান্ত্রিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।