সংসদে তিন বিল উত্থাপন: সুপ্রিম কোর্ট ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব
সংসদে সুপ্রিম কোর্ট ও মানবাধিকার কমিশন বিল উত্থাপন

সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন: সুপ্রিম কোর্ট ও মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের প্রস্তাব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারক নিয়োগের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করতে তিনটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে পৃথকভাবে এই বিলগুলো উপস্থাপন করেন, যার মধ্যে রয়েছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল

বিরোধী দলের আপত্তি ও আইনমন্ত্রীর জবাব

এই অধ্যাদেশগুলো বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের আপত্তি ছিল। সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা সরাসরি আপত্তি জানান। আইনমন্ত্রী তখন স্পষ্ট করেন যে, বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (আপত্তি) ছিল, এবং তিনি এখন শুধু বিলগুলো সংসদে উত্থাপন করছেন। তিনি স্পিকারকে অনুরোধ করেন যাতে বিলগুলো পরে বিতর্কের জন্য রাখা হয়, সম্ভবত আগামী বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার আলোচনা হতে পারে।

সাতটি বিল পাস: নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি

একই দিনে, জাতীয় সংসদ সাতটি বিল পাস করেছে, যার মধ্যে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) বিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই বিলগুলো উত্থাপন করেন। বিলগুলোর তালিকা নিম্নরূপ:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল
  • জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) বিল
  • নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) বিল
  • নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) বিল
  • ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল
  • জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) রহিতকরণ বিল
  • বাংলাদেশ ল’ অফিসার্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল

বিলগুলোতে কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় স্পিকার দফাওয়ারি সরাসরি ভোটে সেগুলো পাস করেন, এবং কণ্ঠভোটে সবগুলো অনুমোদিত হয়। বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছিল যে অধ্যাদেশগুলো যেভাবে আছে সেভাবেই অনুমোদন করা হোক, এবং সংসদে উত্থাপিত আকারেই বিলগুলো পাস হয়।

বিরোধী দলের আরও আপত্তি ও সময়স্বল্পতা

ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল পাসের সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান পয়েন্ট অব অর্ডারে আপত্তি জানান যে, বিলের কপি সংসদ সদস্যদের তিন দিন আগে দেওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তিনি উল্লেখ করেন যে তাঁরা মাত্র ৪৯ পৃষ্ঠার একটি নথি পেয়েছেন, যা আলোচনার জন্য অপর্যাপ্ত।

জবাবে স্পিকার কার্যপ্রণালি বিধির কথা উল্লেখ করেন এবং তাঁর বিশেষ ক্ষমতার কথা বলেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ব্যাখ্যা দেন যে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ ৯ এপ্রিলের মধ্যে পাস করতে হবে, এবং সময়স্বল্পতার কারণে সব বিলের আগে কপি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন যে যেসব বিলে বিশেষ কমিটিতে একমত হয়েছিল সেগুলো এখন পাস হয়ে যাক, আর যেগুলোতে আপত্তি বা সংশোধনী আছে সেগুলো আলাদাভাবে মঙ্গলবারের মধ্যে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যান্য বিল ও ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত প্রস্তাব

এর আগে, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল–২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন, তবে এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এই বিলে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশের ৭(৫) ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে, যা তামাক চাষ সীমিত করার বিধান রাখে। বিশেষ কমিটি এই ধারা সংশোধনের সুপারিশ করেছিল।

অধ্যাদেশগুলোর অবস্থা ও বিল উত্থাপনে বিভ্রান্তি

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদনের সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত করা এবং ১৬টি পরে শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিল উত্থাপনের সময় কিছু বিভ্রান্তিও দেখা দেয়। সম্পূরক কার্যসূচির মাধ্যমে বিল আনার সময় আইনমন্ত্রী ভুলবশত ভিন্ন বিলের নাম উচ্চারণ করেন, যা ডেপুটি স্পিকার সংশোধন করেন। পরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সঠিক বিল উত্থাপন করা হয়।

সামগ্রিকভাবে, আজকের সংসদ অধিবেশন আইনি সংস্কার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া শক্তিশালীকরণের দিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যদিও বিরোধী দলের আপত্তি এবং সময়ের চাপ উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।