জাতীয় সংসদে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়িয়ে 'গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) বিল' ও 'ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল'সহ সাতটি বিল পাস হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে এই বিলগুলো অনুমোদন লাভ করে।
বিল উত্থাপন ও পাসের প্রক্রিয়া
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জহামান আজ অধ্যাদেশের ১০টি বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন। অন্যদিকে, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু কৃষি ভূমি সুরক্ষা আইনের বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন। উত্থাপিত বিলগুলোর মধ্যে সাতটি পাস হয়েছে, যা নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ রূপান্তর
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে আইনে রূপান্তরের জন্য বিল আকারে উত্থাপনের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি নির্ধারণ করে রিপোর্ট দেয় গত ২ এপ্রিল। এই ৯৮টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০টি জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হয়, যার মধ্যে সাতটি পাস হয়েছে।
পাস হওয়া বিলের তালিকা
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া আইনের বিলগুলো নিম্নরূপ:
- ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন- ২০২৬
- রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (আমেনমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬
- নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধন আইন-২০২৬
- নির্বাচন কমিশন কর্মচারী (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন-২০২৬
- জাতীয় সংসদের নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) আইন-২০২৬
- জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) রহিতকরণ আইন-২০২৬
- বাংলাদেশ ল অফিসার্স (এমনমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬
আলোচনার জন্য সংরক্ষিত বিল
আপত্তি থাকায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনপ্রচলন) আইন-২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২(রহিতকরণ) আইন-২০২৬ আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। সংসদের বিশেষ কমিটিতে আলোচনা শেষে এই বিলগুলোর পাস করার জন্য আবার উত্থাপন করা হবে।
এছাড়া, 'ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা' সংশোধন আইনের বিল যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো নির্বাচনী ও আইনি কাঠামোকে শক্তিশালী করার দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়।



