সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে বিএনপি জোটের প্রাধান্য
জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের বণ্টন নিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, বিএনপির জোট ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পাবে। এই ঘোষণা সোমবার (৬ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ১১তম কমিশনের সভা শেষে দেওয়া হয়।
নির্বাচনের তারিখ ও প্রক্রিয়া
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, "আজকের বৈঠকে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই তফশিল ৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করা হবে এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বৈঠকে মোট পাঁচটি এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং নির্বাচনের বিস্তারিত শিডিউল পরবর্তীতে জানানো হবে।
জোটের গঠন ও প্রার্থীদের তালিকা
জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যারা একজোট হয়েছেন। বিএনপির সঙ্গে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর এবং আন্দালিব রহমান পার্থের দল সংযুক্ত রয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতের সঙ্গে এনসিপি এবং খেলাফত আন্দোলন জোটবদ্ধ হয়েছে। ইসি সচিব স্পষ্ট করে বলেন, রুমিন ফারহানা জোটের হয়ে অংশ নেবেন না। এই পরিস্থিতিতে, বিএনপি জোট ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট ১৩টি আসন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা একটি আসন পাবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পূর্ববর্তী নির্বাচনের প্রসঙ্গ
প্রসঙ্গত, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত থাকে। এছাড়া, বগুড়া-৬ আসনে তারেক রহমানের পদত্যাগের কারণে উপনির্বাচন হবে। চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে আইনি জটিলতা থাকায় নির্বাচন কমিশন এখনও ফলাফল প্রকাশ করেনি। এই বিষয়গুলো সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইসির এই ঘোষণা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও প্রস্তুতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।



