সংসদ অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাট, সংবিধান সংশোধন ও মিনি স্টেডিয়ামের অস্তিত্ব নিয়ে আলোচনা
সংসদে সাউন্ড বিভ্রাট, সংবিধান সংশোধন ও মিনি স্টেডিয়াম নিয়ে আলোচনা

সংসদ অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাট ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিন রবিবার (৫ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বেশ কিছু ছোটখাটো ঘটনা ও মন্তব্য নজর কেড়েছে, যা কখনো বিতর্ক তৈরি করেছে আবার কখনো হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে। আজ (৬ এপ্রিল) সংসদের এমনই কিছু উল্লেখযোগ্য টুকিটাকি ঘটনা তুলে ধরা হলো।

সংবিধানে ‘আইনি প্রতারণা’ সংশোধনের প্রস্তাব

জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবে অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা ‘সংশোধন’ হয়। তিনি সংবিধান সংশোধনের জন্য সব দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে আমরা সম্মান জানাতে চাই। ২৪-এর জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের নির্যাসকে আমরা সংবিধানে ধারণ করার অঙ্গীকার করেছি। এটি চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ৭১-এর স্বাধীনতার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না।’’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, ‘‘পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে। হাইকোর্ট ইতোমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন। বাকি অংশগুলো এই সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।’’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭ শে মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেন। এটিই প্রকৃত ইতিহাস যা আমরা সংবিধানে ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতিটি পুনর্বহাল করতে চাই।’’

শান্তিবাহিনী-রাজাকার ইস্যুতে সংসদ সদস্যের মন্তব্য

পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, ‘‘একাত্তরে স্বাধীনতার আগে ৬২’তে ক্লাস এইটের ছাত্র ছিলাম। ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধ, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা, সবকিছু দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। ১৭ বছরে এ সংসদে ছয়বার আসার সৌভাগ্য হয়েছে। তখনও দেখেছি বিএনপিকে ভাঙতে অনেকে এই দলকে আদর্শহীন দল, রাজাকার ও পাকিস্তানের সহচর বলে। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগে কারা শান্তিবাহিনী ছিল, কারা রাজাকার ছিল, কারা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে, সেই বিষয়গুলো আমি উল্লেখ করে কারও মনোকষ্ট দিতে চাই না। শুধু মনে করিয়ে দিতে চাই জুলাই আগস্ট আমাদের মাথার মনি। সেই আন্দোলন সংগ্রামে আমাদেরও আত্মত্যাগ আছে। তাই আমাদের বিভ্রান্ত করবেন না।’’

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাট ও আমেরিকার কোম্পানির অনাগ্রহ

বিকেলে জাতীয় সংসদের সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাটের কারণে ৪০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন স্পিকার। পরে সন্ধ্যায় অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘‘মাইকে যে বিভ্রাট হয়েছে, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে খবর নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ক্ষিপ্ত জনতা জাতীয় সংসদের প্রবেশ করে আসবাপত্র, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদি তছনছ করেছে। এ কারণে ক্রমাগত মাইকের বিভ্রাট দেখা যাচ্ছে। আরেকটি কারণ হলো ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ২০২২ সালে এ মাইক সিস্টেম সংসদের অভ্যন্তরে স্থাপিত হয়। যারা স্থাপন করেছেন, এটার কোনও ওয়ারেন্টি ছিল কী না, মাইকের কার্যকারিতা কতদিন থাকবে সে বিষয়ে কোনও কাগজপত্র পাওয়া যাচ্ছে না। অত্যন্ত হেলাফেলার সঙ্গে এ বিশাল কাজ করা হয়েছে।’’

স্পিকার আরও বলেন, ‘‘সংসদ কর্তৃপক্ষ আমেরিকার সেই কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছে। এখানে এসে সংসদীয় মাইক ব্যবস্থা ঠিক করার কোনও আগ্রহ ওই কোম্পানির নেই। তারা ক্রমাগত বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় যে কমিউনিটি এ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল তারাও কখনও পলাতক, কখনও দায়সারাভাবে এড়িয়ে থাকে। আমি এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছি। কারণ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ হাউস এই জাতীয় সংসদে এভাবে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট জাতি ও দেশের জন্য অত্যন্ত কলঙ্কজনক। এগুলো যেন আর না হয়, সে চেষ্টা সবাই মিলে করতে হবে।’’

কুমিল্লা দক্ষিণ মিনি স্টেডিয়ামের অস্তিত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্ন

সংসদ অধিবেশনে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাতিল নোটিশের ওপর আলোচনার সময় কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, কাগজে-কলমে অস্তিত্ব থাকলেও বাস্তবে কুমিল্লা দক্ষিণ মিনি স্টেডিয়ামের কোনও হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। এ সময় তিনি স্টেডিয়ামটি উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মনিরুল হক চৌধুরী সংসদকে জানান, ‘‘২০০৪ সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা সৃষ্টির পর সেখানে একটি মিনি স্টেডিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর প্রশাসনিকভাবে নামকরণ ও বরাদ্দ নিশ্চিত করা হলেও বর্তমানে এর কোনও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেও কুমিল্লা জেলায় এই নামে কোনও স্টেডিয়াম খুঁজে পাইনি। অথচ সরকারি নথিতে বলা হচ্ছে স্টেডিয়াম সেখানে আছে।’’