নাহিদ ইসলামের তীব্র অভিযোগ: সংস্কার বাস্তবায়নে ইউনূস-আসিফদের রাজপথে নামার আহ্বান
পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে শনিবার দুপুরে দেশে ফিরে ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য রাজপথে নেমে আসার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
জনগণের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতা, এখন নিরাশা
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাঁদের ক্ষমতা দিয়েছিলাম, তাঁরা আমাদের নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুকু অর্জন হয়েছে, সেই অর্জন ধরে রাখার জন্য তাঁদেরও মাঠে নামতে হবে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকারের সময়ে গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ১০ থেকে ১১টি অধ্যাদেশ বর্তমান বিএনপি সরকার সংসদে আনছে না এবং সেগুলোকে আইনে পরিণত করবে না।
ইউনূস ও আসিফ নজরুলের দায়িত্বের প্রশ্ন
নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ যেসব উপদেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁরা তো এই অধ্যাদেশগুলো করেছিল। এখন যে বাতিল করা হচ্ছে এগুলো নিয়ে তাঁদের কথা বলতে হবে। ডক্টর মুহাম্মদ ইউনুসকে মুখ খুলতে হবে।’ তিনি অভিযোগ করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার একটি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছে এবং এখন সংস্কার বাতিল হতে চলেছে।
সংসদকে অকার্যকর করার অভিযোগ
সংসদের পরিস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জাতীয় সংসদে যেটা হচ্ছে এটা একধরনের নাটক হচ্ছে। সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা চলতেছে। যে রাষ্ট্রপতির এতদিন থাকার কথা ছিল না।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, সরকারি দল সংসদকে অকার্যকর করে দিচ্ছে এবং আলোচনার পরিবেশ না থাকায় তাঁদের রাজপথে আসতে হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন, ‘সংসদকে অকার্যকর করে দিচ্ছে সরকারি দল। তাঁরা সংসদকে কার্যকর করতে চান। দুটো নির্বাচন হয়েছে—গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের ভিত্তিতে যে সংসদ হয়েছে, সেই সংসদ কার্যকর আছে। কিন্তু আরেকটি নির্বাচন যেই নির্বাচনের ফলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হওয়ার কথা ছিল, যার দায়িত্ব ছিল এই সংসদ সদস্যদের। তারা (বিএনপি সরকার) সেটাকে অকার্যকর করে রেখেছে। ফলে এই সংসদ ইতিমধ্যে অর্ধেক অকার্যকর হয়ে গেছে।’
তিনি শেষে দাবি করেন যে, সাবেক উপদেষ্টাদের জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং তাদের ক্যারিয়ারে ফিরে যাওয়া উচিত নয়। এই অবস্থায় রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।



