মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় ছাত্রলীগ নেতার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার ওপর নৃশংস হামলা
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক মুক্তিযোদ্ধার ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
ঘটনার বিবরণ ও গ্রেফতার
মঙ্গলবার (১ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন জিস্ট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এ হামলা সংঘটিত হয়। একই দিন রাতে গজারিয়া থানায় আহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতিজা মো. আসাদ বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ৫ থেকে ৭ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী জানান, এজাহারভুক্ত পারভেজকে (৪০) মঙ্গলবার রাতে বালুয়াকান্দি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, "অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে এবং আইনের আওতায় সবাইকে আনা হবে।"
আহত মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় ও অবস্থা
আহত মুক্তিযোদ্ধা অহিদুজ্জামান নাঈম গজারিয়া উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়নের বালুয়াকান্দী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত আব্দুর রাজ্জাক মাস্টারের ছেলে। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে স্থানীয় নাসিমুল ও মনির হোসেনের সঙ্গে অহিদুজ্জামান নাঈমের একটি সালিশ বৈঠক চলছিল। সালিশ শেষে তিনি একা মহাসড়কের পাশে গেলে গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও দনিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি তুহিন প্রধানের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল নাঈমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলার পদ্ধতি ও আহতের অবস্থা
হামলাকারীরা তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে তার একটি হাত ও একটি পা ভেঙে যায় এবং মাথার পেছনে আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শারমীন সুলতানা জানান, "আহতের অবস্থা গুরুতর ও আশঙ্কাজনক ছিল। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে।"
আহতের বক্তব্য ও অভিযুক্তের অবস্থান
আহত মুক্তিযোদ্ধা অহিদুজ্জামান নাঈম অভিযোগ করে বলেন, "সালিশ থেকে বের হওয়ার পর তুহিন প্রধান ও তার সহযোগীরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত তুহিন প্রধানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত তুহিন প্রধানের বাবা খোকন প্রধানের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল আহত মুক্তিযোদ্ধার।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া
পুলিশের তদন্ত চলছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এ হামলার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনগুলোও ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এই ঘটনা সামাজিক অস্থিরতা ও আইনের শাসনের গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



